ওষুধশিল্প বিকাশে বাধা কাঁচামাল আমদানিতে অতিনির্ভরতা

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০৫

সেমিনারে এপিআই খাত উন্নয়নে গবেষণা বাড়ানোর আহ্বান

ইত্তেফাক রিপোর্ট

স্থানীয়ভাবে বাংলাদেশে ওষুধের বাজার বছরে ২০ হাজার ৫১২ কোটি টাকা। বছরে এই বাজার ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। গতকাল শনিবার নিজস্ব মিলনায়তনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়। মানুষের জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন, নানা ধরনের নতুন নতুন অসুখের পাশাপাশি ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায় স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ায় ওষুধের বাজার ক্রমেই বড়ো হচ্ছে। বক্তারা বলেছেন, স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ওষুধের রপ্তানি বাজারও সম্ভাবনাময়। কিন্তু কাঁচামাল আমদানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা আমাদের ওষুধ শিল্পের অন্যতম একটি প্রতিবন্ধকতা। এ পরিস্থিতিতে ওষুধের বিভিন্ন উপাদানসহ কাঁচামাল (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা এপিআই) স্থানীয়ভাবে উত্পাদনের লক্ষ্যে গবেষণা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসীসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম। এ সময় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. রুহুল আমিনসহ সরকারি ও বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।

ওসামা তাসীস বলেন, কাঁচামাল আমদানির ওপর বেশিমাত্রায় নির্ভরতা আমাদের ওষুধ শিল্পের অন্যতম একটি প্রতিবন্ধকতা। দেশীয় এপিআই উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানিকৃত এপিআইর প্রায় পাঁচ শতাংশ উত্পাদন করতে সক্ষম। এটি আমদানিকৃত এপিআইর চেয়ে তুলনামূলক সস্তা। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে এপিআইর উত্পাদন আরো বাড়ানোর জন্য দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

এ খাতে গবেষণা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়নে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করতে হবে। বক্তারা বলেন, ২০৩৩ সালের পরবর্তীতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি টেকসই ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের বিকাশে আমাদের অবশ্যই এপিআই খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে।

এপিআই উত্পাদনে বিদেশি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তারা যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে। এটি নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প স্থানীয় চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বর্তমানে বাংলাদেশ ১২০টি দেশে সাড়ে ১৩ কোটি মার্কিন ডলারের ওষুধ রপ্তানি করছে।

বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর ২০২৭ সালে ট্রিপস (ট্রেড রিলেটেড আসপেক্ট অব ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস) চুক্তির আওতায় বিদ্যমান সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য এখনই যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তা বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। তিনি ওষুধ খাত, বিশেষত সম্ভাবনাময় এপিআই খাতের উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম গতিশীল করার আহ্বান জানান এবং এক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস্ লিমিটেডের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান প্রমুখ।