চট্টগ্রামে যানবাহনে বাতিল সিলিন্ডার বসানোর হিড়িক

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৩৫

চট্টগ্রামে সিএনজিতে রূপান্তরিত বিপুলসংখ্যক যানবাহনে বাতিল, পুরোনো ও অননুমোদিত গ্যাস সিলিন্ডার লাগানোর হিড়িক পড়েছে। সেই সঙ্গে ব্যবহূত সিলিন্ডার প্রতি পাঁচ বছর বা নির্ধারিত সময় পর পর রি-টেস্ট সম্পাদনের নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্ট মালিকদের তাতেও অনীহা দেখা যাচ্ছে।

গত অক্টোবর মাসেই চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতুরি চৌমুহনী এলাকায় বাঁশখালীগামী একটি সিএনজিচালিত অ্যাম্বুলেন্সে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত হন দুই নারীসহ চার জন। আহত হন আরো তিন জন। এ ঘটনার পর চট্টগ্রামের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্সটিতে স্থানীয় ওয়ার্কশপের মাধ্যমে বেআইনিভাবে লাগানো হয়েছিল ফাইবার দিয়ে নির্মিত অননুমোদিত ও পুরোনো বাতিল গ্যাস সিলিন্ডার, যা সংগ্রহ করা হয়েছিল ফৌজদারহাট সীতাকুন্ডের জাহাজভাঙা শিল্প থেকে। বেআইনিভাবে সেটি সংযোজন করা হয়েছিল চট্টগ্রাম মহানগরীরই কোনো একটি চোরাই ওয়ার্কশপে। নগরীতে চলাচলকারী আরো এমন অনেক অ্যাম্বুলেন্সের অবস্থা এরকম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত দেন।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে সরকার অনুমোদিত সিএনজি কনভারশন ও রি-টেস্টের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে নাভানা, ইন্ট্রাকো ও সাউদার্ন। এগুলো সরকারের রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদন ও সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত। এই কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারাও যানবাহনে সিএনজি সিলিন্ডার সংযোজন ও রি-টেস্টে চালক-মালিকদের বিভিন্ন অনিয়ম প্রসঙ্গে ইত্তেফাকের সঙ্গে কথা বলেছেন।

বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক তফাজ্জল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, পুরোনো, বাতিল ও অননুমোদিত সিলিন্ডার ব্যবহার করার কারণেই চট্টগ্রামসহ সারাদেশে যানবাহনে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে মারাত্মক হতাহতের ঘটনাগুলো ঘটছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর নাভানা সিএনজি কনভারশনের সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মজিবুল হক ইত্তেফাককে বলেন, নগরীর কেবল বাদুড়তলাতেই দেখা যাচ্ছে অনেকগুলো ওয়ার্কশপ পুরোনো ও বাতিল সিলিন্ডার রং করে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন যানবাহনে লাগিয়ে দিচ্ছে। তারা এসব বাতিল সিলিন্ডার কম দামে বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে নতুন করে রং লাগিয়ে রাস্তার পাশেই শুকিয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, একশ্রেণির গাড়ির মালিক চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে গাড়ি সরবরাহ নিয়ে টাকা বাঁচানোর জন্য এসব ওয়ার্কশপ মালিকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। ফলে প্রায়ই সেগুলো বিস্ফোরিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। মজিবুল হক আরো বলেন, নগরীতে সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হচ্ছে একশ্রেণির লাশ বহনকারী ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্স। এগুলোর ভেতরে অনভিজ্ঞ হাতে তিনটি করে পুরোনো সিএনজি সিলিন্ডার লাগানো হয়েছে।