সন্ত্রাসবাদের স্থান বাংলাদেশে নেই :পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৪০

 ‘কক্সবাজার ঘোষণা’র মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ‘বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব সংলাপ’। তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুত্, জ্বালানি খাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ সম্ভাবনাময়ী বিভিন্ন খাতের সার্বিক উন্নয়নে এক সঙ্গে কাজ করা জরুরি বলে একমত হয়েছেন দুই দেশের অংশগ্রহণকারীরা। সমাপনী সেশনের প্রধান অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে শুধু আশ্রয় নয়, জীবন ধারণের সকল উপকরণ সরবরাহ করে পৃথিবীতে নজির সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। এ কারণেই শেখ হাসিনা ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধি পেয়েছেন। তাদেরকে দীর্ঘদিন রাখা আমাদের জন্য ভোগান্তির। বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে মিয়ানমার তাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এটি দ্রুত করতে ভারতসহ বন্ধুপ্রতিম অন্য দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে টেকনো ইন্টারন্যাশনাল কলেজ অব টেকনোলজির পরিচালক ড. রাধা তমাল গোস্বামী বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের উন্নত সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ সম্প্রতি ত্রিপুরায় গ্যাস সরবরাহ ও মংলা এবং চট্টগ্রাম বন্দর                ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিতে ভারত সরকার খুবই খুশি।

উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া ১২ রোহিঙ্গার বিষয়ে বক্তারা বলেন, প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হলে আশ্রিত রোহিঙ্গারা আঞ্চলিক সন্ত্রাসের বিস্ফোরক হয়ে দাঁড়াতে পারে। এটি এ অঞ্চলের কোনো দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না।

টেকনোলজি পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি সেশনে বাংলাদেশে দায়িত্বপালন করা ভারতীয় সাবেক হাইকমিশনার বীনা সিক্রি বলেন, প্রযুক্তিতে দ্রুত এগুচ্ছে বাংলাদেশ। বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতে ক্রমান্বয়ে যুক্ত হচ্ছে সফলতা। বলতে গেলে সব সেক্টরে সফলতার গল্প তৈরি করেছেন শেখ হাসিনা।

নেপাল থেকে জলবিদ্যুত্ আমদানির প্রচেষ্টার পাশাপাশি সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাকে ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বায়ু বিদ্যুত্ উত্পাদনের উদ্যোগ চলছে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য আবদুল আজিজ খান।

ভারতের রাজ্যসভার বিধায়ক ও প্রখ্যাত সাংবাদিক এম জে আকবর বলেন, বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক বিশেষ বন্ধুত্বপূর্ণ, যা গত ২৫ বছরের চেয়ে ভিন্ন।

সমাপনীতে সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের পরিচালক অলক বানশাল, কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বক্তব্য রাখেন। অন্যান্য সেশনে বক্তব্য রাখেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলী শিকদার প্রমুখ। স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরোয়ার কমল, বিজেপির নেতা রাম মাধব বারানাসী, ফ্রেন্ড বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর রিজিয়নল স্টাডির চেয়ারম্যান আ স ম সামশুল আরেফীন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব) ফোরকান আহমদসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন ।

শুক্রবার ‘বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব সংলাপে’র প্রথম দিনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি। এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ উপস্থিত ছিলেন।