দৈনিক প্রথম আলোর সাময়িকী কিশোর আলোর বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় সারাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এদিকে নাইমুলের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে তার সহপাঠীরা। নাইমুলের মৃত্যুর অনেকক্ষণ পরও ঘটনা চেপে রেখে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ায় আয়োজক ও কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। এসব অভিযোগে গতকাল শনিবার ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে নাইমুলের সহপাঠী ও অভিভাবকেরা। এ সময় তারা প্রথম আলোকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। মানববন্ধনে নাইমুলের সহপাঠীরা দাবি করেছে, সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণেই আবরারের মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে কেন নিটকস্থ হাসপাতালে না নিয়ে ফ্রি চিকিত্সা করার চেষ্টা করে কিশোর আলো কর্তৃপক্ষ? এই ফ্রি চিকিত্সা করানোর চেষ্টা করায় নাইমুলের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সহপাঠীরা। এদিকে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করেছে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। শনিবার বিকালে তদন্ত কমিটির বিষয়ে কলেজটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম আহমেদ বলেন, শুক্রবার রাতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। অপরদিকে নাইমুলের মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার রাতে নাইমুলের বাবা বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। গতকাল শনিবার নাইমুলকে গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে দাফন করা হয়েছে। তবে তার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মোহাম্মদপুর থানার ওসি গণেশ গোপাল বিশ্বাস জানিয়েছেন, পরিবারের আবেদন অনুযায়ী ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
নাইমুলের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল সকালে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা স্কুলের সামনে প্রথমে মানববন্ধন করে। এ সময় নাইমুলের সহপাঠীরা চার দফা দাবি জানিয়ে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। তাদের মানববন্ধনে স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরাও যোগ দেন। মডেল কলেজের সামনে উপস্থিত একজন অভিভাবক প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি শিশুর জীবন চলে যাচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে গান-বাজনা চলবে, এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এ কাজ করতে পারে না।
এদিকে দুপুরের পর নাইমুলের সহপাঠীরা রেসিডেনসিয়াল স্কুল থেকে পায়ে হেঁটে কাওরান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে আসে। এ সময় তারা প্রথম আলোর কার্যালয়ের সামনে নাইমুল হত্যার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করে। পরে ‘আমার ভাই মারা গেল, কিশোর আলো চুপ কেন?, ‘কিশোর আলোর অমানবিকতা, মানি না মানব না’ স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করে তারা।
মানববন্ধনের সময় সহপাঠীরা অভিযোগ করে বলে, নাইমুলকে ফ্রি চিকিত্সা নিতে গিয়ে হাতে ধরে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ছিল, কিন্তু তারা সেখানে তাকে নেয়নি। উলটো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়ার পথেই নাইমুলের মৃত্যু হয়।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি
নাইমুলের সহপাঠীরা ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে চার দফা দাবি জানিয়েছে। এসব দাবি হলো :ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে হবে, অনুষ্ঠান আয়োজকদের মৃত্যুর দায় স্বীকার করে আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত বক্তব্য দিতে হবে, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে এবং শুধু দুর্ঘটনা নয়, আয়োজকদের গাফিলতি ও উদাসীনতা উল্লেখ করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
প্রথম আলোর দুঃখ প্রকাশ
রেসিডেনসিয়ালের ছাত্র নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে প্রথম আলো ও পত্রিকাটির সাময়িকী কিশোর আলো।
