এশা তাঁর ছাত্রছাত্রীদের আঁকা ছবি দেখছিলেন। খুব সুন্দর, এশা বললেন, কিছু শেড মনে হয় বাকি আছে। এশা কথাগুলো বলছিলেন জয়ার পেছনে দাঁড়িয়ে তার আঁকা ছবিটি দেখে।
আমি ভাবতে পারছি না! জয়া আর্তনাদ করে উঠল। এইমাত্র আমি ছবি আঁকা শেষ করে গেলাম আর এখন দেখছি, আমার সুন্দর হলুদ রঙের কলা সবুজ হয়ে গেল।
তুমি কী বলছ? এশা বললেন।
আমার পেইন্টিং! এইমাত্র আমি আঁকা শেষ করলাম এবং তৈরি হচ্ছিলাম আর একটি ছবি আঁকার জন্য। দেখুন না এই পাঁচ মিনিটের মধ্যে কী হয়ে গেল।
আমার জন্য কী সুন্দর এক পাত্র ফল। এশা বললেন, আপেলে কী সুন্দর নির্ভুল লাল শেড, আঙ্গুরগুলো দেখতে নীল-বেগুনি রঙের। কলা কিছুটা সবুজ। কিন্তু তা পাকবে। এশা জয়ার সঙ্গে জোকস করছেন।
কলা অবশ্যই পাকা, সতেজ এবং হলুদ ছিল। জয়া আর্তনাদ করে উঠল।
ভুল কোনটা—এশা জিজ্ঞেস করলেন।
কেউ একজন এটাকে সবুজ করে দিয়েছে, যখন আমি রুমের বাইরে গিয়েছিলাম। জয়া বলল। জয়া তার বাম দিকে তাকাল। উর্মি হলুদ রং দিয়ে তার ছবিতে সূর্য আঁকছে।
তোমার কাছে কি সবুজ রং আছে? জয়া বলল।
উর্মি হেসে মাথা ঝাঁকাল এবং বলল, আমার কাছে শুধু লাল এবং হলুদ আছে।
জয়া তার ডান দিকে তাকাল এবং দেখল শম্পা সাদা কালো জেব্রা আঁকতে ব্যস্ত।
শম্পা, জয়া বলল, তোমার কাছে কি কিছু সবুজ রং হবে?
দুঃখিত, শম্পা বলল, আমার কাছে মাত্র দুটি রং সাদা এবং কালো।
জয়া ঘুরে দাঁড়াল, তার পেছনের জুসিকে লক্ষ করল। জয়াকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে জুসি বলে উঠল, দুঃখিত, কোনো সবুজ রং নেই। আমি সমুদ্র আর ঢেউয়ের ছবি আঁকছি। আমার কাছে কেবল সাদা এবং নীল রং আছে। তাই আমি নিশ্চয়ই তোমার হলুদ পাকা কলাকে সবুজ বানাতে পারি না।
আমি করিনি। উর্মি বলল।
আমিও না। শম্পা বলল।
অগত্যা জয়া উর্মিকে বলল, আমাকে কিছু হলুদ রং দাও তো। জয়া তুলিতে খানিকটা হলুদ রং নিয়ে সবুজ কলার ওপর হালকা শেড দিয়ে দিল।
এখন এটা সত্যিই পেকেছে। আমি আবার সুন্দর পাকা ও সতেজ কলা ফিরে পেলাম। যে আমার ছবিটি নষ্ট করেছে, তাকে পেলে আমি তার মুখ সবুজ বানিয়ে দেব।
আপনি জানেন কি জয়ার ছবির কলার সবুজ রং কে দিয়েছে? এবং তা সম্ভব কিভাবে?
উত্তর আগামীকাল
