গাজীপুরে খালাকে শ্বাসরোধে খুন করল ভাগিনা!

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৯, ২২:১১

g  গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পশ্চিম বিলাশপুর এলাকায় রবিবার সকালে খালা রিনা বেগমকে (৫০) শ্বাসরোধে হত্যা করেছে ভাগিনা মো. হোসেন (১৫)। এ সময় হোসেন ও তার সহযোগীদের ধারালো অস্ত্রাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে খালু  সিদ্দিক বেপারী (৫৫)। তার পেট ও গলায় আঘাত করে পালিয়ে যায় হোসেন ও তার সহযোগীরা। তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ রিনা বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল মর্গে পাঠিয়েছে।

মা ও ভাইয়ের সঙ্গে মো. হোসেন ঢাকার আশুলিয়ার বটতলা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। দেড় বছর আগে তার বাবা হামেদ বেপারী মারা যান। নিহতের ছোটো ছেলে দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী সোহানা আক্তার হেনা জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে দুই বন্ধুকে নিয়ে মো. হোসেন তাদের বাসায় বেড়াতে আসে। রাতে হোসেন ও তার বন্ধুরা ড্রয়িং রুমের পাশের ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। সকাল ৭টার দিকে চিত্কার-চেঁচামেচির শব্দ পেয়ে ঘর থেকে বের হতে গিয়ে তিনি দেখেন ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। এ সময় হোসেন ও তার দুই বন্ধুকে ছুরি হাতে দৌড়ে পালাতে দেখেন। প্রতিবেশীরা এসে দরজা খুলে দিলে ঘর থেকে বের হয়ে তিনি দেখেন, মেঝেতে শ্বশুর রক্তাক্ত অবস্থায় এবং শাশুড়ি ড্রয়িং রুমে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক রিনা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। সিদ্দিক বেপারীকে প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে ঢাকায় রেফার্ড করেন তারা। 

প্রতিবেশীরা জানান, সিদ্দিক বেপারীর বাড়ি ভোলা সদরের ধনিয়া গ্রামে। ১৫ বছর আগে পশ্চিম বিলাশপুরে জমি কিনে তিনি পাঁচ তলা ভবন তৈরি করেন। তিন তলায় নিজেরা থাকতেন। অন্য ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া। ছেলে দেলোয়ার হোসেন জানান, ঘরে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা ছিল। এসব লুট করতেই হোসেন সম্ভবত সেখানে এসেছিল। হোসেনদের অভাবের সংসার। ঘটনার পর ঘরের আলমারি ও ড্রয়ার তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে।

গাজীপুর মেট্রো পলিটন পুলিশের সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কারণে এ  ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।