g বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা
বড়াইগ্রামে যৌতুক না দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মনিরুল ইসলাম (২৬) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। নিহত তাসলিমা খাতুন (২০) জোয়াড়ী গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে। শনিবার পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। মনিরুল বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইনে কর্মরত আছেন। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে উপজেলার বাটরা গোপালপুর গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে মনিরুলের সঙ্গে তাসলিমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাসলিমা স্বামীর সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তখন থেকেই মনিরুল তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলেন। কিন্তু তাসলিমা তাতে রাজি হয়নি।
নিহতের বড়ো ভাই রবিউল ইসলাম জানান, গত ২৪ আগস্ট মনিরুল তাসলিমাকে বাবার বাড়িতে রেখে যায়। এর দুই দিন আগে কৌশলে সে তার স্ত্রীর গর্ভপাত ঘটায়। গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে মনিরুল পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে এসে তাসলিমাকে টাকার জন্য চাপ দেয়। এ সময় বাড়ির সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে তাসলিমাকে পিটিয়ে গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায় সে। পরে তাসলিমা মারা গেছে ভেবে মনিরুল গ্রিলবিহীন জানালার কপাট খুলে পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা বাড়ি এসে তাসলিমাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে এবং পরে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ৫২ দিন চিকিত্সাধীন থাকা অবস্থায় শনিবার ভোরে তাসলিমা মারা যান। এ ব্যাপারে পুলিশ কনস্টেবল মনিরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার স্ত্রী মারা গেছে বলে আমি শুনেছি। তবে আমার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সঠিক নয়। নাটোরের সহকারী পুলিশ সুপার ফাতেমা-তুজ-জোহরা জানান, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
