বয়সভিত্তিক ক্রিকেট বা ঘরোয়া ক্রিকেটে তার মূল পরিচিতি—মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। কিন্তু মাঝে-মধ্যে ব্যবহূত হওয়া তার লেগস্পিনটাই মনে ধরেছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের। আর সেটা দিয়েই আস্তে-আস্তে নিজেকে চেনাচ্ছেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। ভারতের বিপক্ষে পাওয়া অসাধারণ জয়ের পথেও লেগস্পিনে দুই উইকেট পেয়েছেন এই তরুণ। গতকাল বলছিলেন, তিনি সুযোগ পেলে আরো ভালো করার চেষ্টায় আছেন।
বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত জয়টা পেয়েছে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে চড়ে। কিন্তু স্বয়ং মুশফিক বলেছেন, এই জয়ের ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন বোলাররা। বিশেষ করে আমিনুল ও আফিফের বিশেষ প্রশংসা করলেন তিনি, ‘আমাদের পেসারদের শুরুটা দারুণ হয়েছে। যদিও ওরা খুব একটা নিয়মিত খেলে না। আল আমিন তিন বছর পর খেললো। শফিউল আসা-যাওয়ার মধ্যে আছে। একই ব্যাপার ঘটেছে মুস্তাফিজের ব্যাপারেও। সব বোলার ভালো করেছে। আমিনুল, আফিফ খুব ভালো বোলিং করেছে। ওরা কন্ডিশন খুব ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে।’
আমিনুল নিজে বলছিলেন, কয়েকদিন আগে দিল্লিতে আসায় এই কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়াটা তাদের জন্য সহজ হয়েছে, ‘আমরা তো কয়েকদিন আগে এসেছি। এখানে অনুশীলনের সুযোগ হয়েছে। আবহাওয়াসহ সবকিছুর সঙ্গে আমরা ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছি। ভারত খুবই ভালো দল। ওদের বিপক্ষে ভালো করাটা সবসময়ই আনন্দের। তবে আমি যখন যে জায়গাতেই খেলি, চেষ্টা করি নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য।’
ম্যাচে এসে এই লেগস্পিনারের চিন্তা ছিল, আলাদা আলাদা ব্যাটসম্যানের জন্য আলাদা বোলিং করা। আর সেটা করেই সাফল্য পেয়েছেন বলে বলছিলেন, ‘ব্যাটসম্যান ভেবে বোলিং করছিলাম। কোন্ জায়গায় খেলতে চাচ্ছে, এর বিপরীতে বোলিং করা, ভালো জায়গায় বোলিং করা—এটাই পরিকল্পনা ছিল। অনেক কিছুর চেষ্টা করিনি, ঠিক লাইন লেংথে বোলিং করে গেছি।’
এই তরুণ বোলার বললেন, অধিনায়কের পরামর্শ তার জন্য খুব কাজে লেগেছে, ‘রিয়াদ ভাই (মাহমুদউল্লাহ) আমাকে কেবল জায়গায় বোলিং করতে বলেছেন। আমিও বুঝেছিলাম, ঠিক জায়গায় বোলিং করলে কাজ হবে। সেভাবেই পেয়েছি শ্রেয়াসের উইকেট।’
অভিষেক ম্যাচেও বল হাতে আলো ছড়িয়েছিলেন। বিপ্লব অবশ্য সেই ম্যাচের সঙ্গে ভারতের সঙ্গে এই ম্যাচকে মিলাতে চাইলেন না। তিনি বলছিলেন, ‘অভিষেক ম্যাচ তো অভিষেক ম্যাচই। এই ম্যাচ তো সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকে। ঐ ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অভিষেক ম্যাচে ভালো করা প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের জন্য জরুরি। আর ভারত অনেক ভালো দল, ওদের বিপক্ষে ভালো করাও খুশির।’
এই ভালোটা ধরে রাখতে চান আমিনুল। এরপর যখনই সুযোগ পাবেন, নিজেকে আরো মানিয়ে নিতে চাইবেন বলে বলছিলেন, ‘যখন যেখানেই খেলি না কেন নিজের সেরাটা দিয়ে খেলার চেষ্টা করি। যদি আরো সুযোগ পাই, আরো ভালো খেলার চেষ্টা করব। ধীরে ধীরে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
সবমিলিয়ে নিজেকে আরো ভালো করে তোলার স্বপ্ন দেখেন এই তরুণ বোলার। আর সেজন্য সবকিছুই চেষ্টা করবেন তিনি, ‘ভালো দলের বিপক্ষে এই চ্যালেঞ্জ সবসময়ই থাকে। আমার কোচ আছেন। তার সঙ্গে কথা বলব, কিভাবে করলে আরো ভালো কিছু করা যায়। সেভাবে এগোনোর চেষ্টা করব।’
