ঢাকা হতে ওমান, সাড়ে চার ঘণ্টার ফ্লাইটে পুরো সময়টা জুড়ে ভয় আতঙ্ক আর প্রাণ হারানোর শঙ্কায় ছিলেন বাংলাদেশ বিমানের পেটে থাকা জাতীয় দলের খেলোয়াড় কর্মকর্তারা। সব শঙ্কা পেছনে ফেলে গতকাল বিকালেই ওমানের রাজধানী মাসকটে পৌঁছেছে ফিফা আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলতে যাওয়া ফুটবল দল। মাসকটের বিমান বন্দরে নামার পর সেখানে শুকরিয়া আদায় করেন ফুটবলাররা। আগামী ১৪ নভেম্বর মাসকটে বাংলাদেশ ওমান ২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই পর্বের খেলা।
রবিবার রাত ১০টা হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে বাংলাদেশ বিমানের বিজি ০০২১ ফ্লাইটে জাতীয় ফুটবল দলের ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক ঘণ্টা বিলম্ব হয়। বিলম্বিত ফ্লাইটটি ১১টায় উড়াল দেয়। বাফুফের মিডিয়া ম্যানেজার আহসান আহমেদ অমিত ইত্তেফাককে জানিয়েছে, আকাশে ৪৫ মিনিট পথ পাড়ি দেওয়ার পর বিমানের ভেতরে আচমকা সব লাইট বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুত্ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতাতপ যন্ত্রও বন্ধ হয়ে যায়। বিমানের ভেতরে পুরো অন্ধকার হয়ে যায়। অনেকেই কান্নাকাটি করছিলেন। ২১ ফুটবলার, সহকারী কোচ-কর্মকর্তাসহ ওমানগামী অনেক প্রবাসী বাঙালি ছিলেন বিমানে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি পুনরায় ঢাকায় অবতরণ করে। এক ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় ফ্লাইট বাতিল।’ বিমান কর্তৃপক্ষ ফুটবল দলের সবাইকে উত্তরার হোটেল প্লাটিনামে তুলে দিয়ে জানিয়ে দেয় বিমান প্রস্তুত হলেই সবাইকে নিয়ে যাওয়া হবে। গতকাল বেলা ১১টায় পুনরায় আরেকটি বিমান জাতীয় ফুটবল দল নিয়ে ওমানের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
বিশ্বকাপ বাছাই ফুটবল অভিযানে রয়েছে বাংলাদেশ। ওমানের বিপক্ষে কঠিন লড়াই হবে। তবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাংলার ফুটবলাররা কঠিন লড়াইয়ের প্রস্তুতিও নিয়েছে। ভারতের বিপক্ষে কলকাতার মাঠে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে ইব্রাহিম, গোলকিপার রানা, রহমত মিয়া, স্বাদ উদ্দিন, রিয়াদুল হাসান, বিপলু, সোহেল রানা, সুফিল, জামালরা।
বাংলাদেশ এখন আরো উঁচুমানের নৈপুণ্য দেখাতে চায়। ভারতের বিপক্ষে ড্রটি ফুটবলারদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা বদলে দিয়েছে। কাতারের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারলেও ঢাকায় সেই হোম ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছে। তারও আগে তাজিকিস্তানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারলেও সেই ম্যাচের খেলাও দর্শকদের মন ভরিয়েছে। কিন্তু জিততে না পারাটা দুর্ভাগ্যজনক বাংলাদেশের জন্য। সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হলো হয়ে যাওয়া তিন ম্যাচেই স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন কিছুই করতে পারেননি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে গোলের সুযোগ হারিয়েছে। কাতারের বিপক্ষে হাফ চান্স কাজে লাগাতে পারেননি। ভারতের বিপক্ষে গোলকিপারকে এক পেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। একজন স্ট্রাইকারের দুর্বলতার কারণে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। তারপরও আবাহনীর এই স্ট্রাইকার জীবন জাতীয় দলে বার বার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন।
