ফুটবল দুনিয়ায় সব দেশেই লিগের খেলা শুরু হয়ে গেছে। রাত জেগে খেলা প্রিয় মানুষ লা লিগাসহ অন্যান্য লিগের খেলা উপভোগ করছে। আর দেশের ফুটবলে এখনো লিগের খেলা মাঠে গড়াতে দেরি আছে। ডিসেম্বরে লিগ মাঠে গড়ানোর কথা থাকলেও, এখনো খেলোয়াড় দলবদলই সম্পন্ন হয়নি। দলবদল শুরু হয়েছে সেই ১ অক্টোবর। চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। হাতে আছে ১৫ দিন। এর মধ্যে একমাত্র রহমতগঞ্জ ছাড়া কোনো দল খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করায়নি। চট্টগ্রামে শেখ কামাল টুর্নামেন্ট চলাকালীন রহমতগঞ্জ ষোলো সতের জনের একটি তালিকা বাফুফেতে জমা দিয়েছে। আরো কিছু খেলোয়াড় সংগ্রহ করে এক সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে চায় রহমতগঞ্জ। পুরোন ঢাকার এই দলটি ছাড়া বাকি যেসব দল রয়েছে তারা তো বড়ো-সড়ো দলই, তাহলে কেন নাম রেজিস্ট্রেশন করায়নি। এটা ক্লাবগুলোর পুরোনো অভ্যাস, বেশির ভাগ দল শেষ রাতে গিয়ে খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করাবে। চাঁদরাতে কোরবানীর গরু কেনার মতো।
বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী, সাইফ স্পোর্টিং, চট্টগ্রাম আবাহনী খেলোয়াড় সংগ্রহের মতো কাজটা প্রায় সেরেই ফেলেছে। অপেক্ষা, আরেকটু দেখি কি হয়। সময় যেহেতু আছে তাড়াহুড়া করতে রাজি না ক্লাবগুলো। তবে সংশয় রয়েছে মোহামেডান, আরামবাগের মতো দলগুলো। ক্যাসিনো কাণ্ডে যাদের বদনাম হয়েছে তারা বড়ো সমস্যায় রয়েছে। মোহামেডানও দলবদলের কাজ সেরে রেখেছে। তাদের অস্ট্রেলিয়ান কোচ এ মাসেই চলে আসতে পারেন। চড়া পারিশ্রমিক দিয়ে গোলকিপার হিমেলকে নিয়েছে মোহামেডান। আরামবাগ ও মোহামেডান দলবদলের সময় বাড়াতে অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছিল সেটি আমলে নেয়নি লিগ কমিটি। কারণ ফিফার নিয়ম অনুসারে প্রফেশনাল ফুটবলে খেলোয়াড় দলবদলের সময় বাড়ানো যায় না।
আবাহনী তাদের আগের প্রায় সব খেলোয়াড়দের নিয়ে দলগড়ার কাজ সেরে রেখেছে। জাতীয় ফুটবল দলে এখন আবাহনীর ৭ খেলোয়াড় রয়েছেন। গোলকিপার সোহেল, রায়হান, টুটুল হোসেন বাদশা, সাদ উদ্দিন, মামুনুল ইসলাম, সোহেল রানা, নাবীব নেওয়াজ জীবন। বসুন্ধরার আছে ৯ ফুটবলার, গোলকিপার জিকো, সুফিল, সবুজ, মতিন মিয়া, ইব্রাহিম, বিপলু, বিশ্বনাথ ঘোষ, ইয়াসিন খান, রবিউল হাসান। সাইফ স্পোর্টিংয়ের আছে জামাল ভুঁইয়া, রহমত মিয়া, রিয়াদুল হাসান, ইয়াসিন আরাফাত। জাতীয় দল ওমান হতে ফিরলেই বলা যায় খেলেয়াড় রেজিস্ট্রেশনের হিড়িক পড়বে।
পেশাদার ফুটবল লিগের খেলা এবার একাধিক ভেন্যুতে হওয়ার কথা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ছাড়াও বনানী আর্মি স্টেডিয়াম, কুমিল্লা এবং নরসিংদীতে খেলা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। একাধিক দল সিলেট গোলাপগঞ্জ, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ যেতে চায় না। ফুটবলের জন্য নয়, ক্লাব কর্মকর্তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করছে লিগ কমিটি। নরসিংদীতে ড্রেসিং রুম নেই। দুটি ড্রেসিং রুম লাগবে। আছে একটি সেটিও ভালো না। আরেকটি রুম আছে দোতলায়। সেখানে টয়লেট সুবিধা নেই। কুমিল্লার সমস্যা হলো মাঠের মাঝখানে ক্রিকেট পিচ। পিচ থাকলে ফুটবল খেলা যাবে না। আর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামটি সেনাবাহিনীর নিজস্ব মাঠ। সেখানে তাদের কার্যক্রম থাকে। তারই ফাঁকে ফাঁকে প্রিমিয়ার লিগের খেলা হতেও পারে। তবে কুমিল্লা এবং নরসিংদী ভেন্যু পরিদর্শনের পর একটা রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে সংস্কার বিষয়ে। যদি সংস্কার কাজ করা যায় তাহলে লিগের খেলা হওয়া সম্ভব।
