পার্লামেন্টে বিরোধী দল লেবার পার্টি ও তাহার নিজ দল ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির এমপিদের একাংশের তীব্র বিরোধিতার মুখে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এহেন পরাজয়ের অনতিবিলম্বে তিনি পার্লামেন্ট নির্বাচনের ডাক দিয়াছেন। ঘোষণা মোতাবেক, আগামী ১২ ডিসেম্বর ব্রিটেনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করিতেছেন যে পার্লামেন্টে হারিয়া দলনেতা ও প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়িয়া দিবার নৈতিক চাপ হইতে মুক্ত থাকিবার কৌশল হিসাবেই আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়াছেন জনসন।
জনমত জরিপের দিকে তাকাইলে জনসনের কৌশলকে কার্যকর বলিয়া মান্য করিতেই হইবে। প্রভাবশালী সাপ্তাহিক দ্য অবজারভারের সদ্য-প্রকাশিত এক জরিপে তাহার দল বর্তমানে ৪২ শতাংশ জনগণের সমর্থন পাইতেছে বলিয়া জানা যাইতেছে। পক্ষান্তরে, প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি মাত্র ২৬ শতাংশ জনপ্রিয়তা লইয়া বলিতে গেলে একপ্রকার ধুঁকিতেছে। অপর দুই দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও ব্রেক্সিট পার্টি যথাক্রমে ১৬ শতাংশ ও ৯ শতাংশ জনসমর্থন লইয়া তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে অবস্থান করিতেছে। প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও জনসন তাহার প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার নেতা জেরেমি করবিন অপেক্ষা সুস্পষ্ট ব্যবধানে আগাইয়া আছেন। কিছু কিছু পর্যবেক্ষক মনে করিতেছেন যে পার্লামেন্টকে জনগণের সামনে হেয় করিতে পারার মধ্যেই জনসনের জনপ্রিয়তার চাবিকাঠি লুকাইয়া আছে। উল্লেখ্য, প্রায় সাড়ে তিন মাস পূর্বে ক্ষমতায় আসিবার পর হইতেই প্রতিনিয়ত তিনি জনগণের সিদ্ধান্ত মান্য করিবার জন্য পার্লামেন্টকে তাগিদ দিয়া আসিতেছেন। এই দাবির মধ্য দিয়া তিনি ২০১৬ সালের গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে সিদ্ধান্ত হইবার বিষয়টি বারংবার সামনে লইয়া আসেন। অনেকের মতে, পার্লামেন্টে একের পর এক ধরাশায়ী হইবার ঘটনাও প্রকৃত প্রস্তাবে জনসনের পক্ষেই গিয়াছে। জনসনের এহেন ধরাশায়ী হইবার মধ্যে জনগণের পক্ষে বীরোচিত এক লড়াইয়ের চিত্র খুঁজিয়া পাইতেছেন ব্রেক্সিটপন্থি উগ্র জাতীয়তাবাদীরা। তাহারা এক্ষণে এই কথাই প্রচার করিতেছেন যে এত তিক্ততার পরে ইইউ কখনোই আর ব্রিটেনকে ভালোভাবে গ্রহণ করিবে না বিধায় জনসনের ন্যায় একজন শক্তিমান নেতার নেতৃত্বে থাকিয়া ব্রেক্সিট নিষ্পন্ন করাই হইবে বুদ্ধিমানের কাজ।
তবে অনেক সমালোচক মনে করিতেছেন যে, জনসন এত সহজে পার পাইবেন না। বিশেষ করিয়া নাইজেল ফারাজের ব্রেক্সিট পার্টি তাহাকে বিশেষ চাপের মুখে রাখিবে বলিয়াই মনে হইতেছে। উল্লেখ্য, উগ্র জাতীয়তাবাদী কট্টরপন্থি ফারাজ হইতেছেন প্রধান ব্রেক্সিট বিরোধিতাকারী ব্যক্তিত্ব। কনজারভেটিভ পার্টির একেবারে গোঁড়া অংশটির মধ্যে তাহার বেশ ভালোমাত্রায় সমর্থন আছে। এহেন ফারাজে ইতোমধ্যেই নির্বাচনী আসন ভাগাভাগির জন্য জনসনের প্রতি আহ্বান জানাইয়াছেন। প্রস্তাবে সাড়া না মিলিলে প্রত্যেক আসনে একজন করিয়া প্রার্থী প্রদানের হুমকিও দিয়াছেন তিনি। তেমন কিছু হইলে কনজারভেটিভ পার্টি হইতে বেশ কিছু ভোট যে খসিয়া যাইবে তাহাতে সন্দেহ নাই। এইদিকে লেবার পার্টি ব্রেক্সিটকে কিছুটা পাশে রাখিয়া জাতীয় স্বাস্থ্যসেবাকে অন্যতম নির্বাচনী এজেন্ডা করিয়া তুলিতে চাহিতেছে। করবিনের এই কৌশল কাজে লাগিয়া গেলে জনসন যে অনেকখানি কাবু হইবেন, তাহাতে সন্দেহ নাই।
