মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ও চা বাগান এলাকায় এক টিলা থেকে আরেক টিলায় গিয়ে কর্মরত শ্রমিকদের ধাওয়া করছে উন্মত্ত হাতি। হাতির আক্রমণের ভয়ে বাগানের শ্রমিকরা ও পাহাড়ি লোকজন কাজে যেতে পারছেন না।
কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের মেরিনা চা বাগানের ৯নং সেকশন এলাকায় সম্প্রতি হাতি অবস্থান নেয়। সকালের দিকে শ্রমিকরা কাজে গেলে তাদেরকে ধাওয়া করে হাতি। ভয়ে শ্রমিকরা ঐ টিলা থেকে নেমে অন্য টিলায় কাজ শুরু করেন। চা শ্রমিক আগাতা গমেজ, রুচিয়া বেগম, আলিয়া সাংমা, জসিন্তা সাংমা, রিনা বুনার্জি ও পিয়ারা বেগম জানান, হাতির অবস্থানের কারণে আমরা ভয়ে কাজে যেতে পারছি না। এমনকি হাতি আক্রমণের ভয়ে আমরা নির্ঘুম রাত কাটাই।
বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি খোকা নায়েক জানান, চা বাগান এলাকায় হাতি অবস্থান করায় বাগানসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মেরিনা চা বাগানের ব্যবস্থাপক রবিউল হাসান জানান, হাতি আক্রমণের ভয়ে ঐ সেকশনগুলোতে বাগানের কোনো শ্রমিক কাজে যাচ্ছে না। এছাড়া হাতির তাণ্ডবে সেকশনের চা গাছ, শেড ট্রি এবং অনেক কাঠ গাছ তছনছ করে ফেলছে।
কুলাউড়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেদায়েত উল্লাহ জানান, (সেপ্টেম্বর অক্টোবর) মাসে কিছু কিছু হাতির ব্রিডিং পিরিয়ড থাকায় পুরুষ হাতির মধ্যে বিশেষ ধরনের আচরণ পরিলক্ষিত হয়।
বনবিভাগের বনবিট কর্মকর্তা রিয়াজ আহমদ জানান, উন্মত্ত হাতিরা বেশ বড়ো। বিষয়টি চা বাগান ও পাহাড়ি এলাকার সকল হাতির মালিকদের অবহিত করা হয়েছে। মালিকরা হাতিদের নিয়ন্ত্রণ করতে কয়েকজন দক্ষ মাহুত নিয়ে চেষ্টা করছেন। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। হাতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বন বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে।
