চট্টগ্রামের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বিরাজমান নানা সমস্যা, প্রয়োজনীয়তা ও অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সিভিল সার্জন সম্প্রতি এই চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে অচল চিকিত্সা সরঞ্জাম মেরামত, নতুন করে সরঞ্জাম বরাদ্দ ও বার্ষিক অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর চাহিদা উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, কোনো উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমআরআই ও সিটি স্ক্যানিং মেশিন নেই। আপাতত পাঁচটিতে একটি করে এমআরআই মেশিন ও সিটি স্ক্যানিং মেশিনের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। জেলার ১৫টিতে জন্য গত অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল প্রায় ১১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আর চলতি বছরের জন্য বাড়িয়ে ১৫ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে ৫০ ও ৩১ শয্যার ১৫টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অনুমোদিত বেডের ৫৫ থেকে ১৩৭ শতাংশ রোগী চিকিত্সাধীন থাকে। বহির্বিভাগে ও অন্তঃবিভাগে রোগীর চাপ বাড়ছে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে চিকিত্সা সেবার সুবিধা বাড়ছে না। চিকিত্সা উপকরণ স্বল্পতায় রোগীদের সেবা বঞ্চিত হতে হচ্ছে। অধিকাংশ উপকরণ অচল অবস্থায় রয়েছে। আবার যেসব উপকরণ সচল রয়েছে তাতে সেবা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রোগীদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারিভাবে ছয়টি খাতের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকে। সেগুলো হচ্ছে ওষুধ, লিনেন, গজ ব্যান্ডেজ কটন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি।
চিকিত্সকরা জানান, সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হচ্ছে অচল চিকিত্সা সরঞ্জাম। মেরামত প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রিতার কারণে রোগীদের সেবা বঞ্চিত হতে হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, এক্সরে মেশিনের বেহাল অবস্থা। ১৪টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে ১০টিতে এক্সরে মেশিন অচল অবস্থায় দীর্ঘদিন যাবত্ পড়ে রয়েছে। পাঁচটিতে ইসিজি মেশিন অচল রয়েছে। তিনটিতে আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন অচল, পাঁচটিতে আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন সচল রয়েছে এবং সাতটিতে মেশিনই নেই। রাউজান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো ডেলিভারি টেবিল নেই। সাতটি ডেলিভারি টেবিল অচল রয়েছে। ছয়টি হাসপাতালে ১১টি ওটি লাইট অচল।
চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ইত্তেফাককে বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। মন্ত্রণালয়ের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে স্ব-স্ব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চাহিদা জেনে আমরা চিঠি পাঠিয়েছি। এসব সমস্যা নিরসন হলে হাসপাতালগুলোতে সেবার মান বাড়বে।
