আলোর কোলে রাস উত্সব শুরু ১০ নভেম্বর

সুন্দরবনে শিকারি চক্র হরিণ শিকারে তত্পর!

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ২১:২১

সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোর কোলে আগামী ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী তিন দিনের রাস উত্সব। দেশি-বিদেশি পুণ্যার্থী, ভক্ত ও পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রতি বছরের মতো এবারও আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের। তিন দিনব্যাপী রাস উত্সব উপলক্ষ্যে এরই মধ্যে মন্দির নির্মাণসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মেলা উদ্যাপন কমিটি।

এদিকে রাস উত্সবকে সামনে রেখে হরিণ শিকারি চক্রগুলোও এরই মধ্যে তত্পর হয়ে উঠেছে। রাস মেলায় তীর্থযাত্রী বা দর্শনার্থীর আড়ালে এসব চোরা শিকারির দল হরিণ নিধনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ চক্রের অনেক সদস্য এরই মধ্যে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। বাকি সদস্যরা সময়-সুবিধামতো নানা কৌশলে বনের অভ্যন্তরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এরা ফাঁদ, বিষ টোপসহ নানা মাধ্যমে হরিণ শিকার করে থাকে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর বাগেরহাট জেলার আহ্বায়ক মো. নুর আলম শেখ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও রাস মেলাকে টার্গেট করে চোরা শিকারির দল হরিণ ও অন্য বন্যপ্রাণি নিধন করতে পারে। তিনি এ ব্যাপারে বন বিভাগসহ প্রশাসনের নজরদারি আরো জোরদার করার আহ্বান জানান।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং বন ও বন্যপ্রাণি রক্ষায় বন বিভাগের পাশাপাশি নৌবাহিনী, র্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চোরা শিকারিদের ব্যাপারে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানে রয়েছি। সাধারণত দেখা যায় মাছ ধরার অনুমতি নিয়ে এসব অপকর্ম করা হয়। তাই আপাতত আমরা জেলেদের সুন্দরবনে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছি না। শুধু  পুণ্যার্থীরা যাচ্ছেন। তাছাড়া রাতে বনে কোনো ট্রলার চলাচলের অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরো জানান, কন্ট্রোল রুমে সার্বক্ষণিক একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তদারকির দায়িত্বে থাকবেন। এবার রাস উত্সবের নিয়মাবলিতে একটু ভিন্নতা আনা হয়েছে। অন্যান্য বছর পুণ্যার্থীরা রাতেরবেলায় রওনা হতো। কিন্তু এবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণে ১০ নভেম্বর সকাল ছয়টা থেকেই যাত্রা শুরু হবে। তাছাড়া আলোর কোলে নারী পুণ্যার্থীদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য আলাদা শেড ও পর্যাপ্ত টয়লেট তৈরি করা হয়েছে। তিন দিনের এ রাস মেলায় প্রশাসন, বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

রাস উত্সবের আয়োজক কমিটির সভাপতি কামালউদ্দিন আহম্মেদ জানান, ধর্মভীরু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা দুবলার মেলায় মানত করে এবং বছরের এ সময় এসে মানতকারীরা আনুষঙ্গিক অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করে থাকে। আবার কেউ কেউ জীবনের কৃত পাপ মোচন হবে মনে করে এ স্থানে আসে এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে স্নান করে পূত-পবিত্র হতে দেখা যায়। এ সময় মন্ত্রাদি উচ্চারণ করে পাঁঠা, ছাগল, ফল ও মিষ্টি সাগরে নিক্ষেপ করতে দেখা যায় ভক্তদের।

আলোর কোলে রাস উত্সবে আগতদের যাতায়াতের জন্য সুন্দরবন বিভাগ আটটি রুট নির্ধারণ করছে। প্রত্যেক পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থী তিন দিন সুন্দরবনে অবস্থানের জন্য ৫০ টাকা, নিবন্ধিত ট্রলার ২০০ টাকা এবং অনিবন্ধিত ট্রলারে ৮০০ টাকা রাজস্ব ধরা হয়েছে।