প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে বাগদাদে বিক্ষোভ

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৩১

ইরাকে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল মাহদির সতর্কতা সত্ত্বেও সোমবার হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এর আগে কারবালায় বিক্ষোভকারীরা রবিবার রাতভর ইরানি কনস্যুলেটে ভাঙচুরের চেষ্টা চালালে পুলিশের গুলিতে তিন ব্যক্তি নিহত হন।

রবিবার আন্দোলনকারীদের প্রতি বিক্ষোভ থামানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল মাহদি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বিক্ষোভ দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। গত কয়েকদিনের বিক্ষোভে কয়েকশ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে এখনই বিক্ষোভ থামানো উচিত। প্রধানমন্ত্রীর এমন সতর্কতার পরেও সোমবার ফের রাজপথে নামেন আন্দোলনকারীরা। রাজধানীর কেন্দ্রস্থল বাগদাদের তাহরির স্কয়ারে সমবেত হন তারা। সোমবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, তরুণরা অর্থনৈতিক সংকট ও নিপীড়নের মধ্যে জীবনযাপন করেছে। রাজনৈতিক অভিজাতদের চক্র থেকে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে। এর আগে ইরাকের কারবালা শহরে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেটে রবিবার রাতভর ভাঙচুর ও হামলা চালানোর চেষ্টা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেট ভবনে উড্ডয়নরত ইরানি পতাকা সরিয়ে ফেলে সেখানে একটি ইরাকি পতাকা উত্তোলন করে। পরিস্থিতির অবনতি হলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে কমপক্ষে তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। কারবালায় কনস্যুলেট আক্রান্ত হওয়ার খবর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতেও স্বীকার করা হয়েছে। পার্স টুডে জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে একদল দুর্বৃত্ত কারবালায় ইরানি কনস্যুলেটে হামলা চালিয়েছে। ইরাকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর কনস্যুলেটের নিরাপত্তার জন্য কূটনৈতিক মিশনের চারপাশে চার ব্যাটালিয়ন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

বেকারত্ব, নিম্নমানের সরকারি সেবা এবং রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে অক্টোবরের শুরু থেকে বাগদাদের রাজপথে বিক্ষোভ চলছে। নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও গুলি চালিয়ে তাদের ওপর চড়াও হলে এই বিক্ষোভ আরো জোরালো হয়ে ওঠে, ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শহরে। বিশেষ করে শিয়া অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করে। এই বিক্ষোভ এখন সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এ বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে ২৫০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ।