জনসংখ্যা উন্নয়ন বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সকলের জন্য যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবার-পরিকল্পনা সেবাকে কিশোর ও তরুণদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যে সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডকে ঢেলে সাজানোর কথা বলেছেন পরিবার-পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার, দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, নারী-পুরুষের বৈষম্য কমানো, নারীর প্রতি সহিংসতা দূরীকরণের পাশাপাশি সরকারের পরিবার-পরিকল্পনা কার্যক্রমের যে কাঠামো তাকে গতিশীল করে তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। গতকাল সোমবার বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে মেরীস্টোপস বাংলাদেশ ও সিরাক বাংলাদেশের আয়োজনে ‘জনসংখ্যা উন্নয়ন বিষয়ক জাতীয় আইসিপিডি ২৫’ কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি, সংসদ সদস্য জাফর ইমাম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ডা. সরোয়ার বারী, পরিবার-পরিকল্পনা কার্যক্রম বিশেষজ্ঞ ডা. এ জে ফয়সাল, ডা, জেবুন নাহার প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেরীস্টোপস-এর কমিউনিকেশন এন্ড অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার মনজুন নাহার। কর্মশালা সঞ্চালনা করেন সিরাক বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক এস.এম সৈকত। এ কর্মশালায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়ন কর্মী, পরিবার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞসহ প্রায় ১০০ তরুণ অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় নর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফারিন দৌলা যুবকদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য চাহিদা সম্পর্কে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন যেখানে তিনি দেখান যে, ৭৭.৩ শতাংশ কিশোর-কিশোরী যৌন সম্পর্কে জানতে চায় কিন্তু উপযুক্ত সেবাবান্ধব কেন্দ্রের অভাবে তারা তা জানতে পারে না। এছাড়াও বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক বিভিন্ন সামাজিক ও বাধাসমূহ তুলে ধরেন।
কর্মশালায় প্রস্তাব করা হয়, টেকসই উন্নয়নে সকলের জন্য যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার, দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যুবক ও কিশোর-কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার প্রতি গুরুত্বারোপ, নারীর প্রতি বৈষম্য, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধে সরকারকে ব্যাপক পরিসরে যৌন ও প্রজনন শিক্ষার বিকাশ, তথ্য প্রাপ্তি ও সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সেবাপ্রদানকারী সংস্থার মাঝে সমন্বয় সাধন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক মিডওয়াইফ, ধাত্রী, নার্স এবং ডাক্তার নিয়োগ প্রদান করা। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিবার-পরিকল্পনা সেবা চালু করা, আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি, প্রাইভেট ও পাবলিক পার্টনারশিপ শক্তিশালীকরণ এবং পরিবার-পরিকল্পনা সেবা বিষয়ক বিদ্যমান নীতিমালাগুলোর সংস্কারকরণ ও নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
