নাইমুলের মৃত্যু প্রসঙ্গে

সুষ্ঠু তদন্তে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৩৭

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরারের মৃত্যুর বিষয়ে বিশদ তথ্য জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেন, কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে এবং কর্তৃপক্ষ বা আয়োজকরা কী ব্যবস্থা নিয়েছেন—সে সম্পর্কে ব্যাখা চেয়েছেন তিনি।

মন্ত্রিসভার নিয়মিত কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি উত্থাপন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে জানতে চান। মন্ত্রী জানান, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে এবং তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ডিসি তেজগাঁ জোনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানায়। 

তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের জন্য যে বিদ্যুতের তার টানানো হয়েছিল, সেই তারে স্পৃষ্ট হয়েই আবরার মারা গেছে। এখানে আয়োজকদের গাফিলতি ছিল কি না, সে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সবাই এটায় অত্যন্ত হতাশা ব্যক্ত করছেন এ কারণে যে, একটা ছেলে মারা যাওয়ার পরও অনুষ্ঠানটি চালিয়ে যাওয়া হয়েছে! কিশোর আলোর আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় আবরার। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরেও অনুষ্ঠান করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনা হয় আয়োজকদের বিরুদ্ধে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘক্ষণ বাংলাদেশে ক্রিকেট ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কথা বলেন। ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম জয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে তিনিই দিল্লি যেতে নির্দেশ দিয়েছেন। তারা সেখানে অবস্থান করে খেলোয়াড়দের উত্সাহ দিচ্ছেন।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৫৮ শতাংশ : চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৫৮ শতাংশ। অপরদিকে সরকারের পুরো সময়ে মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০১৯ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চারটি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৫৩টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে ৩১টি। ২২টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৫৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। মন্ত্রিসভায় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল নীতিমালা অনুমোদন করা হয়।

আনোয়ারুল ইসলাম জানান, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঁচটি নীতি বা কৌশল, দুটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছে। এ সময়ে সংসদে আইন পাশ হয়েছে পাঁচটি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভার মোট ১৬টি বৈঠক হয়। সেখানে ১১৬টি সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকগুলোতে গ্রহণ করা ১৬১টি সিদ্ধান্তের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে ১২২টি। বাস্তবায়নের হার ৭৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। বাস্তবায়নাধীন সিদ্ধান্ত রয়েছে ৩৯টি।

বর্তমান সরকারের সময়ের মধ্যে ১৬টি আইন জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো বলেন, ‘পাঁচটি আইন সংসদের বিবেচনায় রয়েছে, তিনটি আইন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন। মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের পর ১০টি আইন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে প্রক্রিয়াধীন আছে। এ প্রান্তিকে আটটি নীতি, নীতিমালা, কর্মকৌশল, কর্মপরিকল্পনা ও চারটি আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক অনুমোদন বা অনুসমর্থন করেছে মন্ত্রিসভা।