রাজশাহী পলিটেকনিকেও ছাত্রলীগের টর্চার সেল!

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০৮

বুয়েটের পর রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগের টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছনা ও হত্যার উদ্দেশ্যে গভীর পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এলে টর্চার সেলের বিষয়টি সামনে আসে। এসময় ঐ কক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের লোহার রড, পাত ও পাইপ উদ্ধার করা হয়। তবে অধ্যক্ষের ঘটনার আগে টর্চার সেলের বিষয়টি জানা যায়নি বলে দাবি ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের। এদিকে অধ্যক্ষের মামলায় ছাত্রলীগের আরো চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসাম কলোনির শাহ আলমের ছেলে মেহেদী হাসান হিরা, রবিউল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান আশিক, সাধুরমোড়ের নোমানের ছেলে নাবিউল উত্স ও ছোটোবনগ্রামের আলমগীরের ছেলে নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। এর আগে শনিবার রাতে আটক ২৫ জনের মধ্যে থেকে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পলিটেকনিকের ৫ শিক্ষার্থী শাফি শাহরিয়ার, সোহেল রানা, বাঁধন রায়, আরিফুল ইসলাম ও মেহদী হাসান রাব্বিকে অধ্যক্ষের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিকে ছয় দফা দাবিতে সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১০টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা জড়িতদের বিচার, স্থায়ী বহিষ্কার, ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ, বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ, সকলের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানায়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে দুদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা। এছাড়া অধ্যক্ষের মামলার প্রধান আসামি পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে তুলে নিয়ে পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি করেছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। গত রবিবার সন্ধ্যায় কমিটির সদস্যরা সরেজমিন তদন্ত শুরু করেন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়াও তারা ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ দেখেন। এ সময় তদন্ত দল ঘটনাস্থল পুকুরের পশ্চিম পাশের ভবনের ১১১৯ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের টর্চার সেলের সন্ধান পায়। পরে ঐ কক্ষে রাখা লোহার রড, পাত ও পাইপ পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়। এ সময় তদন্ত কমিটির কাছে কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বলেন, ঐ টর্চার সেলটি ছাত্রলীগের। ঐ কক্ষের সামনেই ছাত্রলীগের টেন্ট। কোনো শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের নেতাদের অবাধ্য হলে ঐ কক্ষে নিয়ে তাকে টর্চার করা হতো বলেও জানান তারা।