বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভালো, তবে মানুষে মানুষে এখনো দূরত্ব --------------- জি এম কাদের

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:১৬

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভালো থাকলেও মানুষে-মানুষে এখনো দূরত্ব রয়ে গেছে। ফেনী নদীর পানি, তিস্তা চুক্তি ও এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এ দূরত্ব কমিয়ে আনা দরকার। মানুষে-মানুষে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। গতকাল সোমবার রাজধানীর শান্তিনগরে হোয়াইট হাউজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভার স্পিকার রেবতী মোহন দাসসহ ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে ‘সার্ক কালচারাল সোসাইটি’র পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

জি এম কাদের বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ে ভারতের যে সমস্যা ছিল তা মিটে গেছে। তাদেরকে নির্মূল করা হয়েছে। এখন দুই দেশের সম্পর্ক আরো গভীর হয়েছে। এক দেশকে আরেক দেশের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে। সম্পর্কের বন্ধন আরো দৃঢ় করতে হবে। ত্রিপুরার স্পিকার রেবতী মোহন দাস বলেন, ত্রিপুরার ৮০ ভাগ সীমান্ত বাংলাদেশের সঙ্গে। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের অনেক মানুষ ত্রিপুরায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। এবার বাংলাদেশে এসে আমরাও দল-মতনির্বিশেষে আতিথেয়তা পেয়েছি। বাংলাদেশ আমাদের সত্ প্রতিবেশী। আমাদের বন্ধন আত্মীয়তার। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার অনুপ চেটিয়াসহ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নির্মূল করেছে। এতে আমাদের সমস্যা দূরীভূত হয়েছে। ভবিষ্যতেও যে কোনো প্রয়োজনে আমরা একে অপরের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দেব।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বকারী সার্ক কালচারাল সোসাইটির সভাপতি ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক অনেক গভীর। ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অনেক সহায়তা করেছে। আমরাও ভারতকে অনেক কিছু দিয়েছি। আমরা একে অপরের পরিপূরক। আমরা যেভাবে ভারতের সহায়তায় এগিয়ে এসেছি, তাদেরও সেভাবে এগিয়ে আসা উচিত। আমরা তিস্তার পানি পাওয়ার আশা করছি।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা ভারতের চেয়েও অনেক ভালো পরিবেশে রয়েছে। এখানে হিন্দুদের সংখ্যালঘু হিসেবে দেখা হয় না, আমাদের সম্পর্ক ভাইয়ের মতো। সার্ক কালচারাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সুজন দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে  বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরার বিজেপির বিধায়ক আশীষ কুমার সাহা, আগরতলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রণব সরকার, আসামের সাংস্কৃতিক সংগঠক ড. সৌমিন ভরাদিয়া প্রমুখ।