দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি রয়েছে। বন্দির সংখ্যা দ্বিগুণ হলেও তাদের চিকিত্সার জন্য রয়েছে মাত্র ১০ জন কারা চিকিত্সক। এত অল্প সংখ্যক চিকিত্সক দিয়ে বন্দিদের ন্যুনতম চিকিত্সা সেবা দিতে পারছে না কারা কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ বলছে, ৮৭ হাজার বন্দির মধ্যে হাজতির সংখ্যা ৬৯ হাজার ৩১৯ জন। সাজাপ্রাপ্ত বন্দি হলো ১৫ হাজার ৮০২ জন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছে ১ হাজার ৭৪৬জন। হাইকোর্টে কারাকর্তৃপক্ষের দাখিল করা এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, হত্যা, রাহাজানি, মাদক, জঙ্গি কার্যক্রমসহ নানা ফৌজদারি অপরাধ সংঘটন বেড়েই চলেছে। সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে কঠোর হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের অভিযানে গ্রেপ্তার হচ্ছে অপরাধীরা। ফলে কারাগারে বেড়েই চলছে বন্দির সংখ্যা। বন্দির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কারাগারে গাদাগাদি করে থাকছে বন্দিরা। করছে মানবেতর জীবনযাপন। অসুস্থ হলেও পর্যাপ্ত চিকিত্সক না থাকার কারনে পাচ্ছে না ন্যুনতম চিকিত্সাসেবা। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা মেডিকেল কলেজ বা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে বন্দিদের। এই পাঠানোর ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয় তাতেও অনেক সময় জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে বন্দিদের। সম্প্রতি পঞ্চগড় কারাগারের উপর একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গতকাল হাইকোর্টে দেয়া কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগের কারাগারগুলোতে বন্দি ধারণক্ষমতা ৪০ হাজার ৬৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৮ হাজার ৭৪৫ জন এবং এক হাজার ৯১৯ জন মহিলা। তবে কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুন বন্দি রয়েছে। কারাকর্তৃপক্ষের দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ৮৬ হাজার ৯৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দি ৮৩ হাজার ৪৫২ এবং মহিলা বন্দি ৩৫৪৬ জন। হাজতি ও দন্ডপ্রাপ্ত মহিলা বন্দিদের সঙ্গে বাস করছে ৩৭২ জন শিশু। এদের সকলের বয়স অনুর্দ্ধ ৬ বছর। যাদের অনেকের জন্ম কারাগারে চার দেয়ালের মধ্যে।
বিপুল সংখ্যক এই বন্দিদের চিকিত্সা সেবা দিচ্ছে মাত্র দশজন চিকিত্সক। যদিও কারাগারগুলোতে চিকিত্সকের অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১৪১টি। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে প্রেষণে বদলির মাধ্যমে কারা চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। তাই এখানে সরাসরি বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সুযোগ নেই। এদিকে গত বছর ২০ জন চিকিত্সককে কারাগারে পদায়ন করা হয়। তবে এর মধ্যে মাত্র ৪জন যোগদান করছেন। বাকি ১৬জন এখনো যোগদান করেননি। কেনা তারা যোগদান করেনি তা আদালতকে ১১ নভেম্বরের মধ্যে জানাতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। এর আগে প্রতিবেদনটি পেশ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। কারা মহাপরিদর্শক ব্রি.জে একেএম মোস্তফা কামাল পাশার পক্ষে ডেপুটি জেলার মুমিনুল ইসলাম এ প্রতিবেদন জমা দেন।
কারাগারে আটকৃত বন্দিদের মধ্যে প্রায় ২৬ হাজার হচ্ছে মাদক মামলার আসামি। এর মধ্যে ২৪ হাজার ৬৩৪ জন পুরুষ এবং এক হাজার ৩৭ জন হলো মহিলা। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করার পরই বেড়েছে মাদক মামলার আসামি সংখ্যা।
