বিকল্প ফসল নিয়ে ভাবতে হবে

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ২৩:১৬

কৃষিখাতের উন্নয়ন যদি করতে হয় এবং দ্রব্যমূল্য যদি ঠিক রাখতে হয়, তবে পণ্যের চাহিদা অনুযায়ী উত্পাদন ও বণ্টন এবং এর সঙ্গে বিকল্প ফসল উত্পাদনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা অনেক সময়ই দেখেছি কৃষকরা অনেক কষ্টে আলু, টমেটো, মরিচ, হলুদ, ধান উত্পাদন করেন এবং দাম কমে যাওয়ার পর রাস্তায় ঢেলে প্রতিবাদ করতে বাধ্য হন! আবার খেয়াল করলে দেখা যাবে বিপরীত চিত্র। যে ফসল এবার অধিক ফলন হলো, ঐ ফসলটিরই অন্যবার দাম সবচেয়ে বেশি। এটা বন্ধ করার উপায় হলো মজুদ এবং চাহিদার গ্রাফিক্যাল একটি হিসাব সরকারের কাছে থাকতে হবে। যদি আমদানি করতে হয় তবু তা টার্গেট সেট করে আগেই আমদানি করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। আরেকটি বিষয় সফলতা দিতে পারে, সেটি বিকল্প ফসল। কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউট বিষয়গুলো ভাবছে। ২২ লাখ টনের ওপরে পেঁয়াজের চাহিদার বিপরীতে ১৭ লাখ টন উত্পাদনে পেঁয়াজের ঘাটতি থেকে যায় প্রায় পাঁচ লাখ টনের কাছাকাছি। সেখানে চিভের মতো মসলা ব্যবহারে বড়ো ধরনের সফলতা আসতেই পারে। এই চিভকে চায়না অনিয়নও বলা হয়ে থাকে। সালাদের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক দিন থেকেই। চিভের ব্যবহার যে পেঁয়াজের সরাসরি বিকল্প হতে হবে তা নয়, তবে পেঁয়াজের মতোই চিভ ব্যবহার করলে পেঁয়াজের ওপর কিছুটা হলেও চাপ কমবে। ধান গবেষণারও সাফল্য আসছে। ইতিমধ্যে কালো ধান নিয়েও বিস্তর গবেষণা হয়েছে। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকে ধন্যবাদ তাদের অগ্রসরমানতার জন্য। তবে আমাদের পণ্য এখন রপ্তানির দিকে বেশি নজর দিতে হবে। আর তার জন্য প্রয়োজন নিজেদের প্রয়োজনীয় চাহিদা, উত্পাদন, মজুদ এবং সক্ষমতার একটি সঠিক গ্রাফিক্যাল ক্যালকুলেশন। চাহিদার বিপরীতে উত্পাদন জানা থাকলেও মজুদের ব্যাপারে এখনও অনেক ধোঁয়াশা। বিষয়টিকে গুরুত্ব  দেওয়া হলেই কৃষিজাত কোনো পণ্যে আমাদের অভাব যেমনি হবে না, তেমনি বাড়বে রপ্তানি যোগ্যতা। আশা করি, বিষয়গুলো কৃষি মন্ত্রণালয়সহ কৃষি সংশ্লিষ্ট সকলে মনোযোগের সঙ্গে দেখবেন ।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর