আগস্ট ও নভেম্বরের কলঙ্ক মুছতে চাই ‘ট্রুথ কমিশন’

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ২৩:৩০

সম্প্রীতি বাংলাদেশের এক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এবং ৩ ও ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কলঙ্ক রচিত হয়েছে, তার ভয়ংকর পরিণতির কবল থেকে রাষ্ট্র ও রাজনীতি আজও মুক্ত হতে পারেনি। জাতি অনেক তথ্য থেকে বঞ্চিত। আর এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এখনো নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাই জাতির সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার লক্ষ্যে ট্রুথ কমিশন গঠন করা দরকার। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া হলে ‘নভেম্বর ১৯৭৫ :ষড়যন্ত্র, রক্তাক্ত বাংলাদেশ ও প্রতিক্রিয়াশীলতা’বিষয়ক এক সেমিনারে তারা এ কথা বলেন।

আয়োজক সংগঠন সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করন সাংবাদিক জায়েদুল আহসান পিন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। আলোচক ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, সাবেক এমপি মাহজাবিন খালেদ, তরুণ রাজনীতিক রাশেক রহমান। আলোচনায় অংশ নেন ১৯৭৭ সালে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত করপোরাল নুরুল ইসলাম।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেন, ১৫ আগস্ট এবং ৩ ও ৭ নভেম্বর জাতির জীবনে কলঙ্কিত অধ্যায়। এই কলঙ্ক মুছতে ট্রুথ কমিশন গঠনের মাধ্যমে নেপথ্য কুশীলবদের চিহ্নিত করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব) বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এবং ৩ ও ৭ নভেম্বর সংঘটিত রাষ্ট্রীয় কলঙ্ক যতদিন আমরা মুছে ফেলতে না পারব, ততদিন আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদা বিপদমুক্ত হবে না। রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে সব সংকট থেকে মুক্ত করতে চাইলে ৭ নভেম্বর সংঘটিত কলঙ্কের লেগেসি থেকে বের হতে হবে।

বক্তারা বলেন, ১৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ভীষণ তত্পর হয়ে ওঠে, সেই সব তথ্যকাহিনি এখন বেরিয়ে আসছে বহুবিধ সূত্র থেকে। তারই ধারাবাহিকতায় জিয়াউর রহমানের হাত ধরে আইএসআইয়ের প্রতিনিধিত্বকারী জামায়াতের পুনরুত্থানসহ একাত্তরে পাকিস্তানের সহযোগী সব রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের এবং বঙ্গবন্ধুর স্বঘোষিত খুনিদের বিচার বন্ধের আইন সংবিধানে সন্নিবেশিত হয়। পরে তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়ার মাধ্যমে বোঝা যায়, জিয়া মূলত আইএসআইয়ের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করেছেন।

সেমিনারে বলা হয়, নভেম্বর এলেই আমাদের ফিরে তাকাতে হয় ৭ নভেম্বরের দিকে। তার সঙ্গে তাকাতে হয় একই বছরের ৩ নভেম্বর ও ১৫ আগস্টের দিকে। কারণ এর কোনোটাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো সব একই সূত্রে গাঁথা এবং একটি অপরটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পরে দেশে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয় উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ঐ অবস্থা আরো ভয়াবহ রূপ নেয় ৩ নভেম্বর জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পালটা ক্যু ঘটার পর। এই ৩ নভেম্বর ভোরে খালেদ মোশাররফের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই খন্দকার মোশতাক ও বঙ্গভবনে অবস্থানরত খুনি মেজরদের হুকুমে পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে জেলের ভেতরে হত্যা করা হয় চার জাতীয় নেতাকে।