বিরল জেনেটিক রোগ, ‘প্রোজেরিয়া’। এ রোগে আক্রান্ত রোগী শিশু বয়সে বুড়িয়ে যায়। শিশুদের এই রোগ শনাক্তে ‘ফাইন্ড দ্য চিলড্রেন-১০ ইন বাংলাদেশ উইথ প্রোজেরিয়া’ নামে ক্যাম্পেইন শুরু করেছে দ্য প্রোজেরিয়া রিসার্চ ফাউন্ডেশন (পিআরএফ)।
এটি বিশ্বের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা প্রোজেরিয়া আক্রান্ত শিশুদের চিকিত্সা ও নিরাময়ে কাজ করছে। শিশুদের দ্রুত বার্ধক্যজনিত জটিল এ রোগের বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতেই এ ক্যাম্পেইনের শুরু হলো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সোমবার থেকে ক্যাম্পেইনটি বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে শুরু হয়েছে বলে জানান পিআরএফের প্রেসিডেন্ট এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অড্রে গর্ডন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রোজেরিয়ার বৈশিষ্ট্য হলো—আক্রান্ত শিশুকে দেখতে বয়সের তুলনায় অধিক বয়স্ক মনে হয়। এ রোগের ফলে শিশুরা গড়ে ১৪ বছর বয়সে হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। এছাড়া প্রোজেরিয়া আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শরীরের বিভিন্ন জোড়া শক্ত হওয়া, স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়া, ওজন কমে যাওয়া এবং চুল ও ত্বক বয়স্কদের মতো হয়ে যাওয়া লক্ষণগুলো দেখতে পাওয়া যায়। ফলে আক্রান্ত শিশুরা জাতিগতভাবে ভিন্ন থাকলেও সবাইকে প্রায় একই রকম দেখায়।
পিআরএফের প্রেসিডেন্ট এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অড্রে গর্ডন বলেন, আক্রান্ত শিশুদের চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করতে আমরা তাদের খুঁজে বের করতে চাই। তাদের শনাক্ত করে চিকিত্সাসহায়তা করাই হলো ‘ফাইন্ড দ্য চিলড্রেন’ ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩৫০-৪০০ শিশু জটিল এ রোগে আক্রান্ত বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন; কিন্তু ২০১৯ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত মাত্র ১৬১ জন আক্রান্ত শিশুর সন্ধান পেয়েছে দ্য প্রোজেরিয়া রিসার্চ ফাউন্ডেশন। ফলে প্রায় ২০০ শিশু এর আওতার বাইরে রয়েছে। পরিসংখ্যানগত দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশে প্রায় ১০ জন প্রোজেরিয়া আক্রান্ত রোগী রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে তাদের এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পিআরএফের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. লেসলি বি গর্ডন বলেন, বাংলাদেশে আমরা যখন প্রোজেরিয়া রোগীর সন্ধান পাব, তখনই তারা পিআরএফের আন্তর্জাতিক প্রোজেরিয়া রেজিস্ট্রির অংশ হয়ে যাবে। চিকিত্সা সুপারিশ পাওয়ার পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল চিকিত্সা পরীক্ষায় যোগদানের জন্য আমন্ত্রিত হবেন। বাংলাদেশে প্রোজেরিয়া আক্রান্ত প্রতিটি শিশুকে এই সুযোগ দেওয়াই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
