নিকলী-করগাঁও সড়ক

সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:০৯

কোনো কোনো স্থান ভেঙে নিশ্চিহ্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেক স্থানে ছোটো-বড়ো গর্ত থাকায় উঁচু-নিচু হয়ে আছে। বাতাস জোরে শুরু হলে বালু উড়ে যাত্রী ও পথচারীদের নাকে-মুখে ঢোকে। এ দুরবস্থা কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার নিকলী-করগাঁও সড়কের। স্থানীয়রা জানান, নির্মাণের পর আর সংস্কার না করায় সড়কের এ দুরবস্থা। হাওরের মধ্যে নির্মিত সাবমার্সিবল সড়কটিতে বছরের ছয় মাস স্থানীয় নিকলী সদর ও করগাঁও দুটি ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষ চলাচল করে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ বয়স্ক ও রোগী এবং ব্যবসায়ীদের। কিশোরগঞ্জে নিকলী-করগাঁওয়ের সড়কের দৈর্ঘ্য মাত্র সাড়ে চার কিলোমিটার। কিন্তু পুরো সড়কে অসংখ্য গর্ত ও ভাঙা অবস্থা। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নিকলী সদর ও করগাঁও ইউনিয়নের লোকজন নিকলী-করগাঁওয়ের সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক দিয়ে বছরের ছয় মাস জেলা ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করে। নিকলী ইউনিয়নের অনেক রোগী ঐ সড়ক দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে আনা-নেওয়া করেন এবং করগাঁওয়ের রোগীদের নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। এ ছাড়াও ব্যবসায়ীরা এ সড়ক দিয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে বিভিন্ন যানবাহনে মালামাল আনা-নেওয়া করেন। ব্যবসায়ী শিতল সাহা বলেন, এ সড়ক দিয়ে একদিন মাল আনলে আর যেতে ইচ্ছা হয় না। কিন্তু জীবিকার তাগিদে না গিয়ে আর পারি না। গতকাল মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে এ সড়ক দিয়ে আসা নিকলী উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের কাসেম নামের কোমর ব্যথার এক রোগী বলেন, ‘কয়েকদিন চিকিত্সা করে যেটুকু ভালো হয়েছি এই সড়ক দিয়ে আইসা আরো ব্যথা বাড়ছে’। এলজিইডি নিকলী উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে সড়কের নিকলী থেকে করগাঁও ব্রিজ পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার ৩ কোটি ৬৪ লাখ ৩ হাজার ৮২০ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। এরপর এ সড়কে আর কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। নিকলী উপজেলা প্রকৌশলী আ. রহমান মুহিম বলেন, এলজিইডির কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রকৌশলী সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার পরিকল্পনা আছে।