বাংলাদেশের খাদ্য পরিস্থিতি

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০০:৫১

স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলাদেশ খাদ্য উত্পাদনে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করিয়াছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যানুযায়ী, সবজি ও মাছ উত্পাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয়। ধান ও আলু উত্পাদনে যথাক্রমে চতুর্থ ও সপ্তম। ইহা ছাড়া বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগসহিষ্ণু শস্যের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে বাংলাদেশের নাম। স্বাধীনতার পর হইতে বাংলাদেশে ধানের উত্পাদন তিন গুণেরও বেশি, গম দ্বিগুণ, সবজি পাঁচ গুণ এবং ভুট্টার উত্পাদন বাড়িয়াছে ১০ গুণ। ইহার প্রভাব পড়িয়াছে ভোগের ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করিয়া দেখাইয়াছে, খাদ্যের জন্য দৈনিক মাথাপিছু ব্যয় বর্তমানে ৬০ টাকা অর্থাত্ প্রতি বেলায় ২০ টাকা করিয়া। শুনিতে খুব বেশি না শুনাইলেও আমরা যদি আমাদের অতীত স্মরণ করি, তাহা হইলে এটি নিঃসন্দেহে উন্নতির দিক নির্দেশ করে। পুষ্টি পরিস্থিতিতে কিছুটা পিছাইয়া থাকিলেও সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতন। বিবিএসের তথ্য অনুসারে সবচাইতে বেশি ব্যয় হয় চাউল বা আটার জন্য। এই খাতে দৈনিক মাথাপিছু ব্যয় হয় ১৬ টাকা। ইহার পর ১০ টাকা ব্যয় হয় মাছের জন্য। মাংস ও ডিমের জন্য খরচ আট টাকা; মসলার জন্য খরচ হয় সাত টাকা; সবজির জন্য খরচ পাঁচ টাকা। বাকি ১৪ টাকা খরচ হয় ডাল, দুধ ও দুধজাতীয় খাদ্য, ভোজ্য তেল, ফল, চিনি, গুড়, পানীয়সহ অন্যান্য খাবারের জন্য। প্রাণিজ আমিষ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেকটাই পিছাইয়া আছে। এক হিসাবে, বিশ্বের ১৭৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭২তম। কেবল ভারতের উপরে বাংলাদেশের অবস্থান। মাথাপিছু দুধ গ্রহণের ক্ষেত্রেও দেশ পিছাইয়া আছে। ফলে এই সকল ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ রহিয়াছে। মাসে গড়ে একটি পরিবার খাদ্যের জন্য ৭ হাজার ৩৫৪ টাকা খরচ করে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ৪ দশমিক শূন্য ৬। একজন ব্যক্তি মাসে খরচ করে ১ হাজার ৮১১ টাকা। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, খানাপ্রতি মাসিক খাদ্যের ব্যয় বাড়িতেছে। ২০১০ সালের জরিপে দেখা যায়, মাসিক খানাপ্রতি খাদ্যের জন্য ব্যয় হইত ৬ হাজার ৩১ টাকা। ২০০৫ সালে ইহার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২০৯ টাকা। বাংলাদেশের মানুষ গড়ে দৈনিক ২ হাজার ২১০ কিলোক্যালরি খাদ্য হইতে পায়। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মানুষের দৈহিক আকারের কথা বিবেচনা করিলে ইহাকে আদর্শ মানের চাইতে খুব কম বলা যাইবে না।

এফএওর বৈশ্বিক ক্ষুধা ও পুষ্টি পরিস্থিতি প্রতিবেদন-২০১৯ অনুসারে, বাংলাদেশের তীব্র ও মাঝারি ধরনের ক্ষুধায় থাকা মানুষের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমিতেছে। তীব্র ক্ষুধা বলিতে যাহারা এক বেলার বেশি খাবার পায় না। আর মাঝারি বলিতে বোঝায় যাহারা দুই বেলার বেশি খাবার পায় না। ২০১৭ সালে তীব্র ক্ষুধায় থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৭৮ লাখ। ২০১৮ সালে তা ১০ লাখ কমিয়াছে। ফলে আমরা বুঝিতে পারিতেছি, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও এখনো অনেক মানুষ ক্ষুধায় ভুগিতেছে, পুষ্টিক্ষেত্রে পিছাইয়া রহিয়াছে। সরকারকে এই দিকে আরো সদয় দৃষ্টি দিতে হইবে।