অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে পেনশনে পুনঃস্থাপিত কর্মচারীর মৃত্যু হলে অন্যান্য পেনশনারের মতো তাঁর বিধবা স্ত্রীও পেনশন পাবেন। কিন্তু পেনশন সমর্পণকারী মৃত কর্মচারীদের বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামীদের পেনশন প্রাপ্যতা সংক্রান্ত দুটি সমস্যার সমাধান এখনো না হওয়ায় পেনশনে পুনঃস্থাপনের বিষয়টি আংশিক কার্যকর হয়েছে বলে মনে করি। প্রথমত, এতদসংক্রান্ত ৮-১০-১৮ তারিখের সরকারি প্রজ্ঞাপনের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, পেনশনে পুনঃস্থাপনের সুবিধা ১-৭-২০১৭ তারিখ থেকে কার্যকর হবে। কিন্তু পেনশনে পুনঃস্থাপনের যোগ্যতা অর্জনকারী কোনো ব্যক্তি ১ জুলাই ২০১৭ থেকে পেনশনে পুনঃস্থাপন কার্যক্রম সমাপ্ত হওয়ার আগে মারা গেলে তাঁকে মৃত্যু পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত এবং তাঁর স্ত্রীকে পরবর্তী সময়ে পেনশন দেওয়া হচ্ছে না। পেনশনে পুনঃস্থাপন প্রক্রিয়া কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে জানুয়ারি ২০১৯-এর আগে শুরু না করায় এই ১৮ মাস সময়ে পেনশনে পুনঃস্থাপনের যোগ্যতা অর্জনকারী অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। একজন মৃত পেনশনারের স্ত্রী এবং পুনঃস্থাপিত পেনশনারের স্ত্রী যদি পেনশন পেতে পারেন, তাহলে এক্ষেত্রে মৃতের স্ত্রীকে তার স্বামীর বকেয়া পেনশন এবং তার নিজের পেনশন কেন দেওয়া হবে না তা বোধগম্য নয়। প্রসঙ্গত, পেনশনের যোগ্যতা অর্জনকারী কর্মচারীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবার পারিবারিক পেনশন পেয়ে থাকেন। দ্বিতীয়ত, পেনশনে পুনঃস্থাপনের যোগ্যতা অর্জনের আগে যাঁরা মারা গেছেন এবং ভবিষ্যতে মারা যাবেন তাঁদের অবসর গ্রহণের ১৫ বছর অন্তে তাঁদের পরিবার (বিধবা স্ত্রী/বিপত্নীক স্বামী) পেনশন পাবেন এরকম সিদ্ধান্ত একান্তভাবে প্রয়োজন। অন্যরা পেনশন পেলে তারা কেন পাবেন না? বিশেষত স্বামীর বা স্ত্রীর অবর্তমানে তাঁদেরই আর্থিক নিরাপত্তা বেশি প্রয়োজন। এ অবস্থায় উল্লিখিত দুটি পর্যায়ে পেনশনে পুনঃস্থাপন সম্পন্ন হলে তা অর্থবহ ও পূর্ণাঙ্গ হবে। অন্যথায় বিষয়টি দায়সারা এবং চটকদার হিসাবেই বিবেচিত হবে।
ওয়াহিদুল ইসলাম আখন্দ
অবসরপ্রাপ্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক, অগ্রণী ব্যাংক।
৫৭০/১- বি, সেনপাড়া-পর্বতা, ঢাকা ১২১৬
