শিকলে বাঁধা ৩ কিশোরের কৈশোর

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৪০

ইফাদ, ইয়াসিন ও আজিজুল-এরা একটি মাদ্র্রাসার হেফজখানার ছাত্র। এদের বয়স তেরোর কোঠায়। তাদের প্রতিদিনের জীবন রুটিন মাফিক পরিচালিত না হলেও দিনের ২৪ ঘণ্টাই কাটছে শিকলে তালাবন্দি হয়ে। প্রতিদিনের খাওয়া, টয়লেট, গোসল, লেখাপড়া, ঘুম-সবই হচ্ছে শিকলে বাঁধা অবস্থায়। এ ঘটনা গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমিলিয়া ইউনিয়নের ভাইয়াসূতি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার।

২০০৬ সালে এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই মাদ্রাসাটিতে সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন মো. আরিফুল্লাহ। বর্তমানে ঐ মাদ্রাসায় ৭৫ জন ছাত্র রয়েছে। এদের মধ্যে ১৮ জন এতিম ছাত্র। এ পর্যন্ত মাদ্রাসাটি থেকে ২৭ জন হাফেজ পাগড়ি নিয়েছে। মোট পাঁচ জন শিক্ষকের মধ্যে তিন জন হাফেজ হাফিজি শিক্ষা দেন। অন্য দুই জন বাংলা পড়ান। মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য রয়েছে পরিচালনা কমিটিও। ছাত্রদের মধ্যে কেউ কেউ কিছু টাকা-পয়সা দিলেও মূলত জাকাত, ফিতরা ও লিল্লাহ ফান্ডে চলে খরচাপাতি।

শিকলে তালা দেওয়া ১৪ পাড়া মুখস্থ মো. ইফাদ মিয়া (১৩) নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ইসলামপাড়া গ্রামের প্রবাসী কাওছার মিয়ার ছেলে, ১৩ পাড়া মুখস্থ মো. আজিজুল ইসলাম (১৩) একই এলাকার কৃষক নাছির উদ্দিনের ছেলে। ইফাদ ও আজিজুল সম্পর্কে মামা-ভাগনে। অন্যদিকে তিন পাড়া মুখস্থ মো. ইয়াসিন (১৩) কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের টেক মানিকপুর গ্রামের মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঐ তিন কিশোর বসে কোরআন শরিফ পড়ছে। কিন্তু ওদের প্রত্যেকের পায়ে বাঁধা শিকলে তালা দেওয়া রয়েছে। ঐ শিকল নিয়েই তারা খেতে যাচ্ছে রান্নাঘরে, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যাচ্ছে টয়লেটে। এ ব্যাপারে ঐ তিন জন ছাত্রের সঙ্গে কথা বললে ওরা জানায়, না বলে চলে যাওয়ায় তাদের বাবা-মা শিকল দিয়ে বেঁধে তালা দিয়ে একটি চাবি নিয়ে গেছে এবং অন্য একটি চাবি মাদ্রাসা সুপারের কাছে রেখে গেছে। এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে মাদ্রাসার শিক্ষক মো. এমদাদুল হক ক্যামেরার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তবে আরেক শিক্ষক হাফেজ মো. সিফাত হোসেন জানালেন, তারা মাদ্রাসা থেকে চলে যায়। এ কারণে তাদের বাবা-মা শিকল দিয়ে তালা মেরে রেখে গেছেন।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম রানু মাস্টার বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। মাদ্রাসার সেক্রেটারি বদরুজ্জামান ভূঁইয়া রতন মাস্টার বলেন, শিক্ষার্থীদের পায়ের শিকল খুলে দিতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু সুপার বলেন, ছাত্ররা চলে যায় এজন্য তাদের বাবা-মা শিকল দিয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপার মো. আরিফুল্লাহ বলেন, এতে তার কিছু করার নেই। ঐ ছাত্রদের অভিভাবকরাই পায়ে শিকল দিয়ে তালা দিয়েছেন। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শিবলী সাদিক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’