নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালের নতুন ভবনটি অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটির উদ্বোধন হয় প্রায় ছয় বছর আগে। কিন্তু জনবল ও চিকিত্সক সংকটের কারণে ভবনটিতে কার্যক্রম শুরু হয়নি। মরিচা ধরে ও পানি চুইয়ে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ভবনের দুই তলা ও তিন তলার অপারেশন থিয়েটার (ওটির) লাখ লাখ টাকার মেশিনপত্র নষ্ট হচ্ছে। সব মিলিয়ে নতুন ভবনটি পড়ে আছে, অন্যদিকে বেড সংকটে মেঝেতে চিকিত্সা নিচ্ছে রোগীরা।
কিশোরগঞ্জ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের আমলে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য ২০১১-১২ অর্থবছরে একটি তিন তলা ভবন নির্মাণ করে সরকার। গত ২০১৩ সালের ২৯ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন এমপি নতুন ভবনটি উদ্বোধন করে যান। উদ্বোধনের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও ভবনটি চালু করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটিতে ২৯ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ছয় জন। হাসপাতালটিতে তৃতীয় শ্রেণির ৪৩টি কর্মচারীর পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৩৫ জন। এবং চতুর্থ শ্রেণির ৩০টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন সাত জন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৩১ শয্যার সবকটি বেড রোগীতে পরিপূর্ণ। বেড ছাড়াও মেঝেতে শুয়ে চিকিত্সা নিচ্ছেন কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ জন রোগী। এ সময় কয়েকজন রোগী ও তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, আমরা গরিব মানুষ বাইরে গিয়ে চিকিত্সা করানোর সামর্থ্য আমাদের নাই। তাই বাধ্য হয়ে মেঝেতে চিকিত্সা নিচ্ছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেজবাহুল হাসান চৌধুরী রোগীদের সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রতিদিন ৩১ শয্যার হাসপাতালটিতে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগী বারান্দায় মেঝেতে থেকে চিকিত্সা নেয়। নতুন ভবনটি চালু করা গেলে রোগীদের সমস্যার সমাধান করা যেত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে নতুন ভবনটি চালু করার চেষ্টা করব।
