নাইমুলের মৃত্যুতে প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০৮

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার পুরান ঢাকার আদালতে দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারায় নাইমুলের বাবা মো. মজিবুর রহমান এই মামলা করেন। মামলায় মতিউর রহমান ছাড়াও কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয় মামলায়। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে নাইমুলের মরদেহ কবর থেকে দ্রুত উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক গতকাল এই আদেশ দেন।

এর আগে গত শুক্রবার রাতে ঐ ঘটনায় আরো একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন নাইমুলের পিতা। এই অপমৃত্যুর মামলা এবং ৩০৪ (ক) ধারায় (অবহেলার কারণে মৃত্যু সংঘটন) করা নালিশি                 মামলাটি একসঙ্গে তদন্ত করে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে মোহাম্মদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেয় আদালত।

নাইমুলের বাবার করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, কিশোর আলোর অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চের পেছনে আনুমানিক বেলা সাড়ে ৩টার সময় বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে নাইমুল। অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য বিদ্যুতের যে সংযোগ স্থাপন করা হয়, তা অরক্ষিত ছিল। ঘটনাস্থলের সন্নিকটে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নাইমুলকে না নিয়ে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঐ হাসপাতাল থেকে ইস্যুকৃত ডেথ সার্টিফিকেট থেকে দেখা যায় যে নাইমুল বিকাল সোয়া ৪টায় ভর্তি হয় এবং আধা ঘণ্টা পর চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, এই মৃত্যুর সংবাদ গোপন করে কিশোর আলো কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গানের অনুষ্ঠান চালিয়ে যায়। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ঐ মৃত্যুর সংবাদ নাইমুলের সহপাঠীর মাধ্যমে তার পরিবারকে জানানো হয়; যা পরিকল্পিত, গাফিলতি ও অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড।

মামলায় আরো বলা হয়, হাসপাতালে সন্তানের লাশ দেখে হতবিহবল হয়ে পড়েন মজিবুর। এ অবস্থায় আসামিরা ঐ মৃত্যুকে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়ার জন্য তাকে চাপ প্রদান করেন। এ সময় মজিবুর তার ছেলের লাশ দ্রুত নিয়ে যেতে চাইলে আসামিরা জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নেওয়ার ইচ্ছা পোষণপূর্বক মুচলেকা প্রদান করলে লাশ অতি অল্প সময়ে হস্তান্তর করা হবে। এ সময় তাকে ভুল বুঝিয়ে তার কাছ থেকে উপরোক্ত মর্মে একটি লিখিত নিশ্চয়নপত্র নেওয়া হয়। এর ফলে নাইমুলের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, নাইমুলের মৃত্যু-পরবর্তী সময়ে প্রকৃত ঘটনা দৃশ্যমান হতে থাকে। তার মৃত্যুর খবরে অনুষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা ও চিকিত্সায় অবহেলার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এমনকি মানববন্ধনও পালন করা হয়। এমতাবস্থায় বাদী মজিবুরের দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে নাইমুলের মৃত্যুটি কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বা অপমৃত্যু নয়; বরং এটা হয়েছে আসামিদের চরম অবহেলা, গাফিলতি, অব্যবস্থাপনা, চিকিত্সায় অবহেলা ও অসাবধানতার কারণে। বিধায় দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারায় এই মামলা করা হলো। বাদীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ওমর ফারুক আসিফ।