‘কষ্ট কখনো বৃথা যায় না’

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৫৭

সমুদ্রের ঢেউ তরঙ্গে সার্ফ বোর্ডে ভেসে বেড়ানো এক বাঙালি নারীর গল্পে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্স প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘ন ডরাই’। আগামী ২৯ নভেম্বর সিনেমাটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। তানিম রহমান অংশু পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল। সম্প্রতি তিনি মুখোমুখি হন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে—

র্যাম্প থেকে সিনেমায়, ‘ন ডরাই’-এর সঙ্গে যুক্ত হলেন কীভাবে?

নির্মাতা তানিম আহমেদ অংশু ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় একটি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করার সময়। এছাড়া প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের লোকজনও আমাকে চিনতেন, তারাই সিনেমাটির জন্য আমার নাম প্রস্তাব করেন। তাছাড়াও আমিও এ রকম একটা গল্প খুঁজছিলাম। গল্প-চরিত্র দুটোই আমার মনের মতো পেয়েছি, তাই রাজি হয়ে যাই। এমন একটি গল্পের সিনেমায় বড়পর্দায় পা রাখছি, আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।

 

আপনার চরিত্র আয়েশা প্রসঙ্গে জানতে চাই—

দেশের প্রথম নারী সার্ফার নাসিমার জীবনের গল্পে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি, এমনটাই ভাবছেন অনেকে। কিন্তু সিনেমাটি নাসিমার গল্পে নির্মিত হয়নি। নাসিমা সার্ফিংয়ের জন্য যে পরিশ্রম করেছেন সেটা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আরেকটা গল্প লেখা হয়েছে। এ সিনেমায় আয়েশা হচ্ছে নারী সার্ফারের চরিত্র। কক্সবাজারের একটি লোকাল ক্যারেক্টার, যে মেয়েটা স্ট্রাগল করে তার স্বপ্ন পূরণের জন্য।

 

আপনি উত্তরবঙ্গের মেয়ে, কিন্তু এ সিনেমায় চাঁটগাঁইয়া ভাষা বলতে হয়েছে আপনাকে। বিষয়টা কতটুকু চ্যালেঞ্জিং?

চাঁটগাঁইয়া ভাষা আমার জন্য শুরুতে বেশ কষ্ট হয়েছে। এরপর তিন মাস ভাষা শিখেছি। চট্টগ্রামের মানুষদের চাল-চলন, আচার-ব্যবহার সম্পর্কে জানার জন্য সেখানকার স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে মিশেছি। রেগুলার লাইফেও তখন চট্টগ্রামের বন্ধুদের সঙ্গে বেশি মিশতাম, চাঁটগাঁইয়া ভাষায় কথা বলতাম। যাতে ঠিকঠাক মতো চরিত্রটিতে তুলে ধরতে পারি। শুধু এই চরিত্রটার জন্যই নিজেকে বদলে ফেলেছিলাম।

 

সার্ফিং কী আগে থেকেই পারতেন?

না, আমি সার্ফিং একেবারেই জানতাম না। শুধু চরিত্রের প্রয়োজনে সার্ফিং শিখতে হয়েছে। এটাও অনেক কষ্টের কাজ, তবে বেশ উপভোগ করেছি। নতুন কিছু শিখতে পেরেছি।

ফাস্ট লুক-ট্রেলার নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আপনি কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমি বিশ্বাস করি, কষ্ট কখনো বৃথা যায় না। আসলেও তাই। ফাস্ট লুক পোস্টার প্রকাশের পর থেকে সিনেসংশ্লিষ্টদের অনেকেই প্রশংসা করছেন। আর আমি যেহেতু বুঝে-শুনে স্ক্রিপ্টটা দেখে এগিয়েছি। আমার মনে হয় গল্পটা অবশ্যই সবার ভালো লাগবে। কারণ এটা একটা ভিন্নধর্মী গল্প। বিশেষ করে নারীদের জানা উচিত আয়েশা, যে চরিত্রটা আমি করেছি প্রত্যেক নারী চলার পথে চরিত্রটিকে কোনো না কোনো সময় অনুভব করেছেন। চরিত্রটিতে তারা তাদের নিজেদের দেখতে পাবেন।