দু-এক দিনের মধ্যে উপকূলে আসতে পারে ‘বুলবুল’

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৫২

বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। দুই-এক দিনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল কতটা প্রভাব বিস্তার করবে সেটা রবিবার স্পষ্ট বোঝা যাবে। তবে শনিবার মধ্যরাত থেকে এর প্রভাব কিছুটা পাওয়া যেতে পারে। এদিকে আজ শুক্রবার খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কি. মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কি. মি. যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কি. মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতি সত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা      হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন ইত্তেফাককে জানান, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরো উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরো ঘণীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২০ কি. মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কি. মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৭০ কি. মি. দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪০ কি. মি. দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তরের নির্ধারিত তালিকা থেকে ধারাবাহিকভাবে এই অঞ্চলের ঝড়ের নাম দেওয়া হয়। বুলবুল নামটি নেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে।

ভারতের আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল শুক্রবার বিকালে আরো শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তখন বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। শনিবার বিকালে বুলবুল পরিণত হতে পারে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে। তখন বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার হতে পারে। এরপর এ ঝড় উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে বাঁক নিতে শুরু করতে পারে। সেই সঙ্গে কমে আসতে পারে এর বাতাসের শক্তি। ১০ অক্টোবর অতি প্রবল থেকে আবার প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বুলবুল। বাংলাদেশের পটুয়াখালী উপকূলের কাছাকাছি সাগরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে বুলবুল নেমে আসতে পারে ঘূর্ণিঝড়ের স্তরে। একই ধরনের মতামত দেওয়া হয়েছে জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের বুলেটিনেও। তাদের পূর্বাভাস বলছে, ধাপে ধাপে শক্তি কমে এক পর্যায়ে বুলবুল সাগরেই শেষ হয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি কবে নাগাদ উপকূলে আঘাত হানবে, বাংলাদেশ উপকূলে কতটা প্রভাব পড়বে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এ ধরনের ঘূর্ণিঝড় যেকোনো সময় গতিপথ পালটাতে পারে। তাই এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে এটা উপকূলের কোথায় আঘাত হানবে। তবে এখন যেভাবে এগোচ্ছে, রাতে এটি ভারতের ওড়িশার দিকে হয়তো যেতে পারে। আবার গতিপথ বদলে অন্য কোথাও আঘাত হানার বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।