ঋণ অবলোপনে সময়সীমার বিরুদ্ধে ব্যাংক কর্মকর্তারা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৫২

খেলাপি ঋণ অবলোপনের জন্য বেঁধে দেওয়া সময়সীমার বিরুদ্ধে বেসরকারি খাতের ব্যাংকের কর্তাব্যক্তিরা। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (এবিবি) এর নেতৃবৃন্দ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠককালে ঋণ অবলোপনের সময়সীমা তিন বছরের পরিবর্তে বিষয়টি ব্যাংকের ওপর ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান, আহমেদ জামাল, ব্যাংকিং সংস্কার বিষয়ক উপদেষ্টা এস কে সুর চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক এস এম রবিউল হাসান, আবু ফরাহ মো. নাসের, এবিবি চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার, এনআরবি ব্যাংকের এমডি মেহমুদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি ৪টায় শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কথা বলেননি। বরং সবাই             গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যান। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণ অবলোপন করা হয়েছে ৪০ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা। জুন পর্যন্ত হিসাবে ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের মধ্যে কু-ঋণ আছে ৯৭ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। যে কোনো সময় অবলোপনের সুযোগ পেলে কু-ঋণের পুরো অর্থ হিসাব থেকে বাদ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বৈঠকে ব্যাংকের সিকিউরিটি সার্ভিসেস, অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা সংশোধন, স্ট্যাম্প ডিউটি, ব্যাংকে শ্রম আইন প্রয়োগ, ইন্টারনাল ক্রেটিড রিস্ক রেটিং (আইসিআরআর) গাইডলাইন্স সংশোধন এবং পরিবর্তনের জন্য ব্যাংক কর্মকর্তারা তাদের দাবি তুলে ধরেন। গৃহঋণের সীমা বাড়ানো এবং খেলাপি ঋণ ও প্রভিশনিং নীতিমালা পরিবর্তনের দাবিও জানানো হয় এবিবির পক্ষ থেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার কমানো এবং খেলাপি ঋণ আদায় বৃদ্ধির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানায়, ঋণ অবলোপনের প্রস্তাবিত নীতিমালা শর্তসাপেক্ষে বিবেচনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আরো পর্যালোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।