মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস, ইউএসএইডের উপপ্রধান বনি গ্লিক, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার গতকাল বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ও মানব পাচারের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার পরিদর্শনে কক্সবাজারে যান। সকালে বিমানবন্দরে পৌঁছালে ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা তাদের স্বাগত জানান। পরিদর্শক টিম কক্সবাজারে জেলা প্রশাসন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলোর (আইএনজিও) সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সাহায্য, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠী, ভাসানচরে শরণার্থী স্থানান্তরসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন তারা।
দুপুরের দিকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস টেকনাফের শাপলাপুর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শনে যান। অন্যদিকে ইউএসএআইডি টিম কক্সবাজার সদরের পাওয়ারহাউস এলাকায় বেসরকারি সংস্থা ইপসা পরিচালিত মানব পাচারের শিকার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার ও রামুর ফতেখারকুলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে চলমান স্যানিটেশনবিষয়ক সচেতনতা কার্যক্রম পরিদর্শন ও মতবিনিময় করেন। এ সময় মানব পাচারের শিকার হয়ে উদ্ধার ভিকটিমদের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় নাটিকা উপভোগ করে পরিদর্শক টিম।
ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার পরিদর্শন শেষে ইউএসএআইডির উপপ্রধান বনি গ্লিক বলেন, মানব পাচারের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। একদিকে সীমান্ত, অপরদিকে রোহিঙ্গা আধিক্যের কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তে এই ঝুঁকি আরো প্রখর। মানব পাচারের বিশ্ব র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সারিতে। এর ক্রমাবনতি ঘটলে মার্কিন সরকারের সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের আরো কঠোর হয়ে কাজ করা উচিত। বনি গ্লিক আরো বলেন, রোহিঙ্গা-সংকট বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সারা বিশ্ব এই সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এটি মূলত মিয়ানমারের কারণেই হয়েছে। বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা-সংকট সমাধানে ট্রাম্প সরকার ইতিমধ্যে মিয়ানমার সরকারের ওপর অর্থনৈতিক নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, চার সামরিক কর্মকর্তার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্টের পর বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশের পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ক্যাম্প ও প্রকল্পস্থল পরিদর্শন শেষে তারা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা (আরআরআরসি) মো. মাহবুব আলম তালুকদারের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাত্ করেন। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, ইউএনসিআরের বাংলাদেশ প্রধান স্টিভ তাদের সঙ্গে ছিলেন।
আরআরআরসি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এখানকার ক্যাম্প এলাকা এবং মিয়ানমারের রাখাইন এস্টেটের পরিস্থিতি দেখে এসেছি। মিয়ানমার এখনো নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া অনিরাপদ।’ মার্কিন সরকারের প্রত্যাশা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিয়ে মার্কিন সরকার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে।
