রাজবন বিহারে দুই দিনের কঠিন চীবর দান উত্সব শুরু

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৫৩

বেইন ঘর আর চরকায় সুতা কাটার মাধ্যমে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বড়ো ধর্মীয় অনুষ্ঠান দানোত্তম কঠিন চীবর দান শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে মঙ্গল সূত্র পাঠ করে বেইন ঘর উদ্বোধন করেন মহাপরিনির্বাণগত মহাসাধক শ্রীমত্ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের শিষ্যমণ্ডলী ও চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। আজ শুক্রবার বিকালে ভিক্ষু সংঘের কাছে ২৪ ঘণ্টায় তৈরিকৃত চীবর উত্সর্গের মাধ্যমে শেষ হবে ৪৬তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান। অর্ধশতাধিক চরকা ও ২০০ বেইন স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ৫০০ নারী এই চীবর তৈরির কাজে অংশগ্রহণ করেছেন।

উত্সবকে ঘিরে রাজবন বিহারের পুরো এলাকাসহ গোটা রাঙ্গামাটি শহর উত্সবমুখর হয়ে উঠেছে। উত্সবে যোগ দিতে রাজবন বিহারে দেশি-বিদেশি পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে। রাজবন বিহার পুরো এলাকায় বসছে মেলা। ধর্মীয় কীর্তন, নাটক, চরকায় সুতা কাটা, বেইন বোনা, কল্পতরু শোভাযাত্রাসহ চলছে বর্ণাঢ্য নানা আয়োজন। প্রায় ৬০০ পুলিশ সদস্য বিহারের ভেতরে এবং বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত রয়েছে। আজ রাতে রাজবন বিহারে ফানুস উড়িয়ে শেষ হবে কঠিন চীবর দান উত্সব। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধেয় গেরুয়া কাপড়কে বলা হয় চীবর। প্রাচীন পুণ্যবতী নারী বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মানুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে চরকায় সুতা কেটে, রং করে আগুনে শুকিয়ে সেই সুতায় তাঁতে কাপড় বুনে চীবর তৈরি করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করা হয় বলে একে কঠিন চীবর দান বলা হয়।