এইচএসসি পরীক্ষা:জীববিজ্ঞান

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৫৩

সৃজনশীল

 

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিও। আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের প্রথম অধ্যায়ের-প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস বিষয়ের ওপর সৃজনশীল প্রশ্নোওর উপস্থাপন করবো, যা ২০১৯ সালের এইচ.এস.সি পরীক্ষায় সকল বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সৃজনশীল প্রশ্ন ঃ বায়োলজি ক্লাসে বায়োলজি ম্যাম প্রোটোকর্ডাটা ও কর্ডাটা সম্বন্ধে আলোচনাকালে বললেন,

- “সকল মেরুদণ্ডীই কর্ডেট কিন্তু সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয়”। তবে মানুষ এই সকল প্রাণী অপেক্ষা উন্নত বৈশিষ্ট্য ধারণ করে তার বংশগতিতে।

(ক) পঙ্গপাল কী ?                                     ১

(খ) কাতলা ও রুই মাছের হূদপিণ্ডকে শিরা হূদপিণ্ড বলা হয় কেন?                                         ২

(গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত উন্নততর প্রাণীটি কোন শ্রেণির অন্তর্গত? উক্ত শ্রেণির বৈশিষ্ট্য তুলে ধর।  ৩

(ঘ) উদ্দীপকে উল্লেখিত বায়োলজি ম্যামের উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।                                         ৪

 

প্রশ্নোত্তর ঃ

(ক) পঙ্গপাল (Locust) ঃ Arthropoda পর্বের প্রাণী ঘাসফড়িং এর বাদামী বর্ণের মাঝারি আকৃতির কিছু প্রজাতি যারা ঝাঁক বেঁধে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ঘুরে বেড়ায় এবং ফসলের ক্ষেতের ব্যাপক অনিষ্ট সাধন করে, তাদেরকে পঙ্গপাল (Locust) বলে।

(খ) উত্তর : কাতলা ও রুই মাছের হূদপিণ্ডের ভিতর দিয়ে শুধুমাত্র CO2 যুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয়, কোনো  O2 যুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয় না। শুধুমাত্র  CO2 যুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয় বলেই কাতলা ও রুই মাছের হূদপিণ্ডকে শিরা হূদপিণ্ড (Venus Heart) বলা হয়।

(গ) উত্তর : উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণী মানুষ। এ সকল উন্নততর প্রাণীর স্মৃতিবর্ধক গ্রন্থি থাকায় এরা Mammalia শ্রেণির  অর্ন্তভূক্ত প্রাণী। নিচে Mammalia শ্রেণির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো-

১. এসব প্রাণীকূলের দেহ পশমাবৃত, কেবলমাত্র তিমি ব্যতীত। এদের স্মৃতিবর্ধক গ্রন্থি ও ঘর্মগ্রন্থি রয়েছে।

২. এদের বহি:কর্ণে পিনা এবং উদর ও বক্ষ গহ্বরের মধ্যস্থলে পেশীবহুল মধ্যচ্ছেদা থাকে।

৩. এদের চোয়ালে বিভিন্ন ধরণের দাঁত রয়েছে।

৪. এরা উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট সমোঞ্চশোণিত প্রাণীও বটে।

৫. এদের হূদপিণ্ড সম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট ও রক্তের লোহিত কণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।

(ঘ) উত্তর : বায়োলজি ক্লাসে বায়োলজি ম্যাম উল্লেখিত উক্তিটি হলো-“ সকল মেরুদণ্ডীই কর্ডেট কিন্তু সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয়”। নিম্নে এর ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো Chordata পর্বের অর্ন্তভূক্ত প্রাণীদের তিনটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- স্থিতিস্থাপক নটোকর্ড, পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু এবং গলবিলীয় ফুলকারন্ধ্র। এসব বৈশিষ্ট্য সব ধরণের Chordate প্রাণীর জীবনের যে কোন দশায় কিংবা আজীবন দেখা যায়।  Chordata পর্বের দুটি উপ-পর্ব রয়েছে। যথা- Urochordata ও Cephalochordata. এদেরকে Protochordata ও বলা হয়। এ সকল সদস্যদের ক্ষেত্রে Chordata বৈশিষ্ট্যগুলো আজীবন পাওয়া যায়। কিন্তু Vertebrata উপ-পর্বের ক্ষেত্রে ভ্রুণাবস্থায় নটোকর্ড থাকলেও পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় তা কশেরুকা নির্মিত মেরুদণ্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। ফুলকারন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং ফুলকা বা ফুসফুসের আবির্ভাব ঘটে। তাই ম্যামের উক্তির সাথে একমত হয়ে বলা যায় যে, সকল মেরুদণ্ডীই কর্ডেট (কারণ ভ্রুণাবস্থায় কর্ডাটার সকল বৈশিষ্ট্য থাকে) কিন্তু সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয়  কারণ, Urochordata ও Cephalochordata উপপর্বের প্রাণীদের নটোকর্ড কখনোই মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয় না।