রানের ঘাটতি দেখছেন অধিনায়ক

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৪৩

প্রথম ম্যাচে দারুণ শুরুর পর দ্বিতীয় ম্যাচে অনেকটা অসহায়ের মতোই হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক রিয়াদ জানালেন, ১৫-২০ রান কম হওয়াতেই রাজকোটের ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলে সফরকারী দলটি।

অনুমিতভাবেই উইকেটটা ছিল ব্যাটিং সহায়ক। এজন্যই রিয়াদের আক্ষেপটা বেশি। তিনি বলেন, ‘উইকেট খুবই ভালো ছিল। তবে আমাদের ২৫-৩০ রান কম ছিল। এই উইকেটে আমাদের অন্তত ১৭৫ রান করা উচিত ছিল। রোহিত-শিখর দুর্দান্ত শুরু করেন। আর সেখানেই ম্যাচ জয়ের কাজ সেড়ে ফেলে ভারত। তাই রোহিত-ধাওয়ানকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। স্কোর ডিফেন্ড করার একটা সুযোগ আমাদের পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমরা তা করতে পারিনি।’

রান কেন আরো বেশি হল না, সেই ব্যাখ্যাটাও দিলেন রিয়াদ। সঙ্গে দিলেন ভুল শুধরে ফেলার তাড়নাও। বললেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা উইকেট হারিয়েছি, যা আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে। এই ম্যাচে আমরা যেসব ভুল করেছি, দল হিসেবে সেগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে।’

নিজের ব্যাটিংয়েও সন্তুষ্ট নন রিয়াদ। মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত তার উইকেটে থাকাটা দলের জন্য জরুরি ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের, বিশেষ করে আফিফ যেভাবে খেলে থাকে, সেভাবেই চেষ্টা করেছিল। হয়তো আজকে ভালো করতে পারেনি। আমারও কিছুটা দোষ ছিল। আমিও ১৯তম ওভারে আউট হয়ে গেছি। আমি যদি শেষ সময় পর্যন্ত থাকতাম, হয়তো আরো কিছু রান করতে পারতাম।’

রিয়াদ মনে করেন, এমন উইকেটে কার্যকর হতে পারেন লেগ স্পিনাররা। প্রশংসা করলেন ম্যাচে দুটি উইকেট পাওয়া বাংলাদেশের আমিনুল বিপ্লবের। বললেন, ‘এমন পিচ হলে রিস্ট স্পিনারদের সেটা খুব সহায়তা করে। (যুজবেন্দ্র) চাহাল সেটাই করে দেখিয়েছে। আমিনুলকে পাওয়াটাও আমাদের জন্য বড়ো প্রাপ্তি। যেভাবে ভূমিকা রাখছে, আশা করব এভাবেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে সে।’

বাংলাদেশের ইনিংসে ১৬টি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা ছিল। তবে ইনিংসে ডট বল ছিল ৩৮টি। এটাকেই বাংলাদেশের রানের ঘাটতির বড়ো একটা কারণ বলে মনে করা যায়। যদিও, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এটাকে বড়ো কোনো সমস্যা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, একটি টি-২০ ম্যাচে যদি ৪০টির ওপরে ডট বল থাকে, তাহলে আপনার ম্যাচ জেতার সুযোগ কম থাকে। সেখানে আমরা ৩৮টি ডট বল খেলেছি। হয়তো ঠিক আছে, তবে আরো উন্নতি করতে হবে।’

তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে এখন ১-১ সমতা। আগামীকাল রোববার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। সেই ম্যাচটাই এখন কার্যত ফাইনাল। সেই ম্যাচ সামনে রেখে রিয়াদ আশাবাদী।

দল এরই মধ্যে নাগপুরে চলে গেছে। সেই ম্যাচ নিয়ে রিয়াদ বললেন, ‘নাগপুরে যখন যাব, সেখানকার কন্ডিশন সম্পর্কে আগে আমাদের বুঝতে হবে। এছাড়া আমাদের আরো বেশি মাত্রায় ইতিবাচক থাকতে হবে। ফাইনালের কথা যদি বলি, এটি নতুন একটি দিন থাকবে, নতুন একটি ম্যাচ হবে। আমার মনে হয়, বিগত দিনগুলোতে যা যা হয়েছে, সেসব নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই। যেটা হয়ে গেছে তো গেছেই। আমরা ভিন্ন কী করতে পারি, সেটা গ্রুপ হিসেবে চিন্তা করা উচিত।

রিয়াদ সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন গুরুত্বপূর্ণ সময় আসবে। এমন মুহূর্তের মোকাবিলা করতে হতে পারে। কীভাবে আমরা সেই পরিস্থিতিগুলো উতরাতে পারব, সেদিকে মনোযোগ দেওয়াই ভালো হবে, পুরোনো চিন্তাগুলো না করে। যেভাবে জিতেছে, অবশ্যই এই ম্যাচের পর ওদের আত্মবিশ্বাস ভালো থাকবে। তবে আমার মনে হয় না আমাদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি হবে। প্রথম ম্যাচে দেখিয়েছি, আমরা জিততে পারি। এই আত্মবিশ্বাস সবার ধরে রাখতে হবে, যেন আমরা সিরিজটা জিততে পারি।’