বিএনপির নেতাদের পদত্যাগ অনিবার্য পরিণতি :কাদের

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০৪

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির সিনিয়র নেতারা একে একে পদত্যাগ করছেন। এটা তাদের নেতিবাচক রাজনীতির অনিবার্য পরিণতি। তারা কখনোই ইতিবাচক রাজনীতি করেননি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলের জাতীয় কাউন্সিল ঘিরে করণীয় নিয়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বরদাশত করা হবে না। যে সংগঠন যেদিন সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করবে যে অনুযায়ী সম্মেলন করতে হবে। কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে। আমাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা হবে সুস্থ। আমি এখানে নেত্রীর পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে সবাইকে জানিয়ে দিতে চাই, কোনো ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে আমরা প্রতিনিধি সম্মেলনে গিয়েছিলাম। তারপরও পত্রপত্রিকায় রাজশাহীর খারাপ খবরে ভরে গেল। এটি আমাদের জন্য দুঃখজনক। সম্মেলনকে সামনে রেখে সব তিক্ততার অবসান ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগে যারা আসছে তারা সবাই অনুপ্রবেশকারী নয়। কারো বিরুদ্ধে যদি সাম্প্রদায়িকতার সংশ্লিষ্টতা না থাকে, কোনো মামলা ও অপরাধের সংশ্লিষ্টতা না থাকে তারা অনুপ্রবেশকারী নয়। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, যাদের সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে তাদের আওয়ামী লীগে জায়গা দেওয়া হবে না। বিতর্কিত ছাড়া কেউ বাদ যাবে না, দায়িত্বের পরিবর্তন হবে। এখান থেকে ওখানে যাবে। কেউ তো এক পদে সারাজীবন থাকবেন না।  সম্মেলনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে এই সম্মেলন বাস্তাবায়নে বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের করণীয় কী, সে সম্পর্কে আমরা আলোচনা করেছি। সারাদেশে আমাদের শাখাসহ জেলা-উপজেলা, থানা-ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো নতুনভাবে করা হচ্ছে। সেসব বিষয়ে আমাদের নেতারা বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করেছেন।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান  গোলাপ, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনের আগে কৃষক লীগের নতুন নেতারা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের শীর্ষ নেতাদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় কৃষক লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি সমীর চন্দ্র এবং উম্মে কুলসুম স্মৃতিসহ সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।