সুন্দর পৃথিবী গড়ার আহ্বানে পর্দা নামল লিট ফেস্টের

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ২২:১৭

দেশি বিদেশি দর্শনার্থী, লেখকের আনাগোনায় পৃথিবীর নানা প্রান্তের নানা বিষয়ে নতুন নতুন দর্শন ভাবনায় মুখর হয়ে উঠেছিল ঢাকা লিট ফেস্ট। গতকাল পর্দা নামল তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের। আয়োজক, মেলায় লেখক-প্রকাশকরা বললেন, তরুণ প্রজন্মের মাঝে নতুন চিন্তা নতুন দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার যে সম্মেলন এই উত্সবের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তা ভবিষ্যতে সুন্দর সমাজ গঠনের পথ সৃষ্টি করবে। আগামীতে ঢাকা লিট ফেস্ট আরো বড়ো পরিসরে করার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো সাহিত্য উত্সব। আয়োজন শেষ হয় দক্ষিণ ভারতীয় সাংবাদিক তিশানি দোশির আবৃত্তি ও নৃত্যনাট্য দিয়ে। এরপর বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী, সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, উত্সব পরিচালক সাদাফ সায্? ও ব্রাজিলিয়ান লেখক মারিয়া ফিলোমেনা বইসো লেপেস্কি।

সকালে তৃতীয় দিনের সকাল শুরু হয় ইসকনের সংগীত দলের ভজন কীর্তন দিয়ে। সকালে নজরুল মঞ্চে একটি শিশুতোষ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটির নাম ‘সাগর তীরে’। উন্মোচনের পর লেখক নাজিয়া জেবীন বই থেকে শিশুদের গল্প পড়ে শোনান। একই মঞ্চে পরে ‘দ্য এলিফ্যান্ট ইন দ্য রুম’ বইয়ের লেখক নন্দিতা খান বইটি থেকে শিশুদের গল্প পড়ে শোনান।

এ সময় লনে রিভাইভিং দ্য আর্ট অব স্টোরি টেলিং শীর্ষক শিশুতোষ আলোচনায় মাদিহা মোরশেদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ চিত্রকর ও অ্যানিমেটর কার্টিস জবলিং, চাইল্ড স্পেশালিস্ট ফ্রান হুরলি, নিউরোসায়েন্টিস্ট নাইলা জামান খান এবং সাজিয়া জামান। চাইল্ড কেয়ারিং অ্যান্ড চাইল্ড ল্যাংগুয়েজ ডেভেলপমেন্ট ছিল আলোচনার মূল বিষয়। কার্টিস জবলিং বলেন, একমাত্র পরিবারই শিশুকে গল্প শুনিয়ে আনন্দময় শিক্ষা দিতে পারে, যা তার সঠিক মানসিক বুদ্ধিবৃত্তিতে সাহায্য করবে। শিশুদেরকে গত্বাঁধা বই হাতে ধরিয়ে না দিয়ে, খেলাচ্ছলে কল্পনানির্ভর শিক্ষা দেওয়া উচিত্। অপরদিকে, বাংলা একাডেমির কসমিক টেন্টে ‘পাওয়ার অব পিকচার’ সেশনে উপস্থিত ছিলেন গ্রাফিক নভেলিস্ট ও কার্টুনিস্ট ফাহিম আঞ্জুম এবং চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন নির্মাতা আবরার আখতার। সঞ্চালক ছিলেন কার্টুনিস্ট সৈয়দ রাশাদ ইমাম তন্ময়।

এদিকে আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে পুলিত্জার পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক জেফরি গেটেলম্যান তার বই ‘লাভ, আফ্রিকা: আ মেমোয়ার অব রোমান্স, ওয়ার অ্যান্ড সারভাইভাল’ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। ‘লাভ, আফ্রিকা’ শীর্ষক সেশনটি সঞ্চালনা করেন জাফর সোবহান।

জেফরি গেটেলম্যান জানান, আফ্রিকা থাকাকালীন তার দশ বছরের অভিজ্ঞতার নির্যাস এই বই। তিনি নিউইয়র্ক টাইমসের পূর্ব আফ্রিকা বিষয়ক ব্যুরো-প্রধান ছিলেন।

এ সময় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত ‘সাহিত্য ও সাংবাদিকতা: দ্বৈতসত্তার মিল-অমিল’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সমকাল এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, পশ্চিমবঙ্গের কবি ও সাংবাদিক মৃদুল দাশগুপ্ত ও কবি সাজ্জাদ শরীফ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নিউজ টুয়েন্টিফোর এর বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী।

এ সময় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে ‘অন দ্য রোড: ট্রাভেল রাইটিং উইথ উইলিয়াম ড্যালরিম্পল’ শীর্ষক সেশনে ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল বলেন, গত শতকের নব্বইয়ের দশক এবং একুশ শতকের গোড়ার দিকে প্রায় ২৫ বছর ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের পর এখানকার মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের বৈচিত্র্য তাকে জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।

এ দিকে, বিকালে মঞ্চের জুটি ও ব্যক্তি জীবনের জুটি ফেরদৌসী মজুমদার ও রামেন্দু মজুমদার আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মঞ্চে বসেন জীবন ও পেশার গল্প নিয়ে। তরুণ অভিনয় শিল্পীদের জন্য পরামর্শ জানতে চাইলে ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, ‘অভিনয়টা জীবন থেকেই শিখতে হয়।’ জীবনকে যত বেশি উপলব্ধি করবে, অভিনয়কে তত বেশি জানবে বলে মন্তব্য করেন গুণী এই অভিনয়শিল্পী।

ফেরদৌসী মজুমদার আরো বলেন, ‘আমরা অনেক যুদ্ধ করে এতদূর আসতে পেরেছি। আমার বাবা ছিলেন খুবই রক্ষণশীল।’ রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘আমরা দুই জনই মুনীর চৌধুরী ও আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। তারা না থাকলে আমরা থিয়েটারে এতদূর আসতে পারতাম না।’