প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন চিকিত্সকদের সুরক্ষা প্রদানের পরিবর্তে তাদের বিরুদ্ধে বিবর্তনমূলক আইন হিসেবে ব্যবহূত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিত্সকরা। তারা বলছেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চিকিত্সকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘চিকিত্সক সুরক্ষা আইন’ করতে হবে। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন-২০১৮ এর কয়েকটি ধারা পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন এবং অবিলম্বে ‘চিকিত্সক সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি অ্যান্ড রাইটস’ এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
লিখিত বক্তব্যে আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা ডা. আব্দুন নুর তুষার বলেন, এই আইনে রোগীর স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। চিকিত্সকদের সুরক্ষা নিশ্চিত হলেই কেবল তাদের পক্ষে রোগীদের সুচিকিত্সা দেওয়া সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত আইনটি পাশ হলে স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যাশী জনগণ, চিকিত্সকসহ সব স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তি, কেউই পরিপূর্ণভাবে উপকৃত হবে না।
আইনের ধারা ১১তে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার চার্জ বা মূল্য তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশনা থাকলেও ল্যাবরেটরিতে সম্পাদিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টে এক জন চিকিত্সকের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষর করার কথা উল্লেখ নেই। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক চিকিত্সকদের ফি নির্ধারণের প্রস্তাবটি সমর্থনযোগ্য নয় বলে জানান। কারণ দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও এলাকার ভিত্তিতে চিকিত্সকদের ফি ভিন্ন ভিন্ন হওয়াও স্বাভাবিক। তাছাড়া, অন্য পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে ফি নির্ধারণের ব্যবস্থা না থাকলেও কেবলমাত্র চিকিত্সকদের ক্ষেত্রে রোগী দেখার ফি নির্ধারণের এই প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তারা বলেন, ধারা ১২(১) এবং ১২(২) সেবা গ্রহিতার বসার জায়গা না থাকলে ৫ হাজার টাকা জরিমানার প্রস্তাবিত দণ্ডটিও গ্রহণযোগ্য নয়।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এফডিএসআর’র মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাংবাদিক ইশতিয়াক রেজা, সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ ডা. ফরহাদ মনজুর, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. জাহিদুর রহমান, আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. নোমান চৌধুরী, মিডিয়া ও পাবলিকেশনবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহেদ ইমরান, কার্যকরী পরিষদের সদস্য ডা. রাশেদুল হক, ডা. ওমর ফারুক, ডা. সুহেল মাহমুদ প্রমুখ।
