প্রাণের ঝুঁকি জেনেও বাড়ি ছাড়েনি অনেকে

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:২৪

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপকূলীয় জেলাসমূহের স্থানীয় প্রশাসন। লোকজনকে মৃত্যুঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জোরালো তত্পরতা চালানো হয়। কিন্তু প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ঘরের মাটি আঁকড়ে আছেন অনেকে। যারা বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি তাদের বক্তব্য, বাড়িতে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র এবং গৃহপালিত পশুপাখি সঙ্গে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া সম্ভব নয়। এসব ফেলে গেলে নিরাপত্তা কে দেবে। তাই তারা বাড়ি ছাড়েনি। উপকূলীয় জেলাসমূহ থেকে ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা এসব তথ্য দিয়েছেন। তবে কোনো কোনো এলাকায় লোকজন নিজেদের গরজেও সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছেন বলে সংবাদদাতারা জানিয়েছেন।

বুলবুলের প্রভাবে গতকাল সকাল থেকেই খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুরসহ দেশের বেশিরভাগ অংশে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষণে ক্ষণে সতর্ক সংকেত প্রচার করা হয়। পুলিশ, বিজিবি, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে গঠিত টিম উপকূলবর্তী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দে আনার কাজ শুরু করে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে সার্বক্ষণিক খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলায় জেলায় বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি পূর্ণিমা থিতির কারণে গতকাল স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি বেড়ে যায় সাত-আট ফুট। এতে উপকূলের নিচু এলাকা আগে থেকেই প্লাবিত হয়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অসংখ্য সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া অনেক স্থানে খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বহুতল ভবনবিশিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোও।

এদিকে, ভোলার বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপকূলের হাজার হাজার জেলে সাইক্লোনের ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত উপেক্ষা করে অবস্থান করছিল মেঘনায় মাছ শিকারের জন্য। মাইকিং সত্ত্বেও বিপদের ঝুঁকিতে পাত্তা দেননি তারা। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, সংকেত উপেক্ষা করে কোনো জেলে ট্রলার নিয়ে নদীতে গিয়ে মাছ শিকার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইত্তেফাকের সংবাদদাতারা বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেছেন বহু আশ্রয়কেন্দ্র খোলা থাকলেও সেখানে একজনও আসেনি। তবে এর উলটো চিত্রও দেখা গেছে। গতকাল দুপুরের পর থেকে অনেক স্থানের বাসিন্দারা দলে দলে আশ্রয় কেন্দে যাওয়া শুরু করেন। কেউ কেউ সঙ্গে করে গবাদিপশুও নিয়ে যান আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে কোথাও রেখে পাহারা দেওয়ার জন্য।

এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্ক সংকেতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বন্দর চ্যানেল নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। কর্ণফুলী নদীর বন্দর চ্যানেলে অবস্থানরত অভ্যন্তরীণ জাহাজ ও ছোটো ছোটো নৌযানগুলো শাহ আমানত সেতুর উজানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বহির্নোঙরে (সাগরে) অবস্থানরত বড়ো জাহাজগুলো ক্রমান্বয়ে কুতুবদিয়া ও কক্সবাজার উপকূলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব বড়ো জাহাজের ইঞ্জিন সার্বক্ষণিক চালু রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।