বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাখো মানুষ, বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:২৯

বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে এক লাখ ৩২ হাজার ৩০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে ৪৪ হাজার ৫৬৩টি ঘরবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও ৩৫ হাজার ৫২৯ হেক্টর জমির ফসল। পানিতে ভেসে গেছে চিংড়সহ ৭ হাজার ২৩৪টি মৎস্য খামার। 

মাছ চাষিদের ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। শুক্রবার রাত থেকে শরণখোলা উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জেলাব্যাপী লাখ-লাখ গাছপালা ভেঙে পড়েছে। এছাড়া বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুতের ৫ শতাধিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে, তার ছিঁড়ে গেছে ৫শ ৭৫টি স্থানে। 

বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক জাকির হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঘূর্ণিঝড়ে পল্লী বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কত দিনে এটি স্বাভাবিক হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

এছাড়া পিডিপিরও বিভিন্ন স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। ফলে বাগেরহাট জেলা এক প্রকার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চল এক প্রকার বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

সুন্দরবনের দুবলারচরে আস্থায়ী শুঁটকি পল্লী লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এত শুঁটকিসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপ। তবে, বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র করমজল ও হারবাড়ীয়ায় দুটি স্থাপনাসহ সামান্য কিছু গাছপালা ভেঙ্গে পড়া ছাড়া বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জে বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়নি।

বাগেরহাটে ঝড়ের সময় গাছ চাপা পড়ে মহিলা ও শিশুসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, ফকিরহাট উপজেলার মাসুম শেখের স্ত্রী হিরা বেগম (৩৫) রামপাল উপজেলার বাবুল শেখের মেয়ে সামিয়া খাতুন (১৫)। 

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, বিধ্বস্ত বাড়িঘর ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের ভিত্তিতে জেলার ৭৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬২টি ইউনিয়নকে দুর্যোগ কবলিত ইউনিয়ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মৃত দুইজনের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে সহযোগিতা করা হয়েছে। 

এ ছাড়া সরকার থেকে বরাদ্দকৃত নগদ প্রায় ১৭ লাখ টাকা, ৬০৫ মে. টন চাল, গোখাদ্য হিসাবে এক লাখ, শিশু খাদ্য এক লাখ টাকা পর্যায়ক্রমে সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 


ইত্তেফাক/জেডএইচ