তারপরও নাঈমের আক্ষেপ

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৯

স্পোর্টস রিপোর্টার

নাঈম শেখকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের পর ঘরোয়া ক্রিকেটেও দারুণ সময় কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু জাতীয় দলের জায়গাটা মিলছিল না। অবশেষে তামিম ইকবালের বদলি হিসেবে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সুযোগ পেলেন।

প্রথম সুযোগের অনেকটা বাজিমাত করেছেন তরুণ এই ব্যাটসম্যান। অভিষেক ম্যাচেই ভারতকে হারানোর পথে অবদান রেখেছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচেও রান পেয়েছেন। আর তৃতীয় ম্যাচে খেললেন ৪৮ বলে ৮১ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। সিরিজ শেষে দেখা গেল, দুই দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান নাঈমের। কিন্তু এতে খুব একটা তৃপ্ত নন নাঈম। কারণ, তিনি চাচ্ছিলেন দলের সিরিজ জয়। সেটা জিততে না পারায় একটা আক্ষেপ নিয়েই দেশে ফিরছেন তিনি। 

নিজের পারফরম্যান্সটা দল জয় না পাওয়ায় ম্লান হয়ে গেছে বলেই বলছিলেন নাঈম। শেষ ম্যাচটা জিতলে এই আক্ষেপ থাকত না বলেই বলেছেন তিনি, ‘আক্ষেপ অনেক বেশি। এই ম্যাচটা জিততে পারলে, সিরিজ জিততে পারলে অনেক ভালো লাগত। জিততে পারিনি এই নিয়ে আক্ষেপ আছে। আমাদের আরো একটা পার্টনারশিপ হলে আমরা হয়তো জিততে পারতাম। আরেকটা ভালো জুটি দরকার ছিল।’

নাঈম বলছিলেন, এই ম্যাচে দুরন্ত এই ইনিংস খেলার জন্য আলাদা কোনো পরিকল্পনা করেননি। তিনি আসলে ম্যাচের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাটিং করার চেষ্টা করেছেন, ‘আমাদের যেমন টার্গেট ছিল, তাতে আমার ওরকম ব্যাটিংই করতে হতো। যেভাবে দরকার ছিল, ওভাবে ব্যাটিং করার চেষ্টা করেছি।’

এতো সুন্দর ইনিংসটা যে বলে শেষ হলো, সেই বলটাকে খুব ভালো বল বলছেন নাঈম। তিনি বলছেন, আউট হওয়ায় সেঞ্চুরি মিস নিয়ে তার আফসোস নেই। যত আফসোস দলকে জেতাতে না পারায়, ‘বলটার কথা যদি বলি, ওদের দিক থেকে এটা বেস্ট বলের একটা ছিল। আমি সেঞ্চুরির কথা ভাবিনি। ফলে ওটা নিয়ে আফসোস নেই। আমি দলের জয়ের কথা ভাবছিলাম। সেখানে সফলতা পাইনি। সেটা নিয়ে খারাপ লাগছিল।’

উইকেটে থেকে মোহাম্মদ মিঠুনের সাথে আলাপ করছিলেন ম্যাচ জিতিয়ে ফেরার ব্যাপার। তারা একমত ছিলেন যে, তাদেরই ম্যাচ শেষ করে আসতে হবে, ‘আমরা দুজনে কথা বলছিলাম। আমরা নিজেদের বলছিলাম যে, শেষ করলে আমাদের শেষ করে আসতে হবে। আমরা দুজন যেন শেষ করে আসতে পারি, সেটা চেষ্টা করছিলাম।’

নাঈম মনে করেন, নিজের প্রথম ম্যাচটা জেতায় অভিষেকটা তার স্মরণীয় হয়েছে। কিন্তু সিরিজটাই স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। এখন অবশ্য নতুন করে সামনে তাকাতে চান এই ওপেনার, ‘অভিষেকটা মনে রাখার মতো হয়েছে। প্রথম ম্যাচে জেতায় অভিষেকটা খুব ভালো লেগেছে। সিরিজটা জিতলে এটা আরো ভালো লাগত। সর্বোচ্চ রান করেছি কি-না সেটা নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তা করি না। আমি আসলে একটা একটা করে ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করি। সামনে এমার্জিং দলের খেলা আছে। এখন ওটা নিয়ে ভাবছি।’

সবমিলিয়ে সিরিজ জুড়ে সিনিয়র খেলোয়াড়দের ও ভারতীয় খেলোয়াড়দের অনেক সমর্থন পেয়েছেন বলে বলছিলেন তিনি, ‘সিনিয়র খেলোয়াড়রা অনেক সাপোর্ট দিয়েছেন। ভারতের সিনিয়র খেলোয়াড়দের সাথেও কথা হয়েছে, ওনারা অনেক প্রশংসা করেছেন।’