টানা বর্ষণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:০৫

 ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

মো. রমজান সিকদার, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা

ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে পেঁয়াজের বীজতলা ও গুটি পেঁয়াজের ক্ষতি হয়েছে। দমকাহাওয়া এবং টানাবৃষ্টিতে গুটি পেঁয়াজ মাটিতে লুটিয়ে পড়াসহ পেঁয়াজের বীজতলা অনেক ক্ষতির শিকার হয়েছে। এ বছর পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার দরুন উপজেলায় শত শত কৃষক প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের জন্য বিগত কয়েকদিনে পেঁয়াজের বীজতলা বপন করেছে। একই সঙ্গে গুটি পেঁয়াজ অনেকটা বড়ো হয়ে ওঠায় বুলবুলের কারণে তা আবার মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন সরকার জানান, পেঁয়াজ চাষের জন্য এ অঞ্চল উপযোগী হওয়ায় এ বছর পৌর সদরসহ ১২টি ইউনিয়নের প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করার জন্য তৈরি করেছে কৃষকরা। হঠাত্ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে প্রায় ৫০ হেক্টর জমির গুটি পেঁয়াজের কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও বৃষ্টি যদি আগামী দুই/একদিন অব্যাহত থাকে তবে বীজতলারও ব্যাপক ক্ষতি হবে। এখন বীজতলার বীজ জমিতে সবেমাত্র অঙ্কুরিত হতে চলেছে। অতিবৃষ্টি হলে তা চরম ক্ষতির কারণ হবে।

আলগী ইউনিয়নের পেঁয়াজ চাষি জুয়েল মোল্লা বলেন, জমিতে গত এক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দানা রোপণ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জমিতে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সবেমাত্র গজিয়ে ওঠা বীজতলা ক্ষতির দিকে যাচ্ছে।

ভোলায় আমন ও খেসারির ব্যাপক ক্ষতি

ভোলা প্রতিনিধি জানান, ভোলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে প্রবল বর্ষণ ও দমকা বাতাসে আমন ধান ও খেসারি ডাল চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বুলবুলের প্রভাবে জেলায় ৫৭ হাজার ১৮৭ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া পান ও শীতকালীন সবজির ২৫ ভাগ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় আমন আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৮০ হেক্টর। এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৫৩ হাজার ৭৮৩ হেক্টর। শীতকালীন সবজি আবাদ হয়েছে ২  হাজার ৭৪২ হেক্টর, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আক্রমণে ৯০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে খেসারি ডালের আবাদ হয়েছে ৫৩৬ হেক্টর যার ৯০ ভাগ সম্পূর্ণ আক্রান্ত এবং পান আবাদ হয়েছে ৫৩৬ হেক্টর যার মধ্যে দুর্যোগে আক্রান্ত ১৩৪ হেক্টর। দুর্যোগকবলিত ফসলের মধ্যে আমন ধান ১০ ভাগ, শীতকালীন সবজি ও ডাল  ৯০ ভাগ এবং পান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ২৪ ভাগ।

ভোলা সদরের ভেলুমিয়া ইউনিয়নের কৃষক সিরাজ উদ্দিন, আবুল বশার এ প্রতিনিধিকে জানান, বেশির ভাগ ধান পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অধিকাংশ হেলে পড়েছে। এখানে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশি।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ ক্ষয়ক্ষতির উল্লেখিত তথ্য  নিশ্চিত করে এ প্রতিনিধিকে জানান, আমরা কৃষকদের দ্রুত পানি সেচ দিতে বলেছি। এছাড়া মাঠে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরো জানান, আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে জেলার ফসলের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য নিরূপণ করা হবে।