রয়টার্স ও বিবিসি
হংকংয়ে ফের গুলি চালিয়েছে পুলিশ। রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস, ছুরি হামলা, গুলি-বিক্ষোভে রক্তাক্ত হচ্ছে হংকং। আগুন প্রতিনিয়তই বাড়ছে। গতকাল সোমবার বিক্ষোভ-সংঘর্ষের পর অন্তত দুই জনের অবস্থা গুরুতর। ফেইসবুকে একটি লাইভ ফুটেজে দেখা গেছে, এক পুলিশ কর্মকর্তা বন্দুক নিয়ে সড়ক অবরোধ করা একজনের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তি করছেন। এ সময় মুখ ঢেকে রাখা আরেকজন এগিয়ে এলে পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গুলি করেন। এরপরও ধ্বস্তাধ্বস্তি চলার মধ্যে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা আরো দুটি গুলি করেন। তবে গুলির পর ফুটেজে ২১ বছর বয়সের এক বিক্ষোভকারীকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তার চোখ খোলা ছিল। চারপাশে ছিল রক্ত। বিবিসিকে একটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র জানান, ‘ঐ ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর। তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।’
গত জুনে হংকংয়ে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো পুলিশ কাউকে সরাসরি গুলি করেছে। এর আগে গত ১ অক্টোবর চীনে কমিউনিস্ট শাসনের ৭০ বছর পূর্তির দিন এক তরুণ বিক্ষোভকারীকে গুলি করেছিল পুলিশ। এরপর ৪ অক্টোবর পুলিশের গুলিতে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোর আহত হয়েছিল। এরপর সোমবার সকালে সর্বশেষ গুলির ঘটনাটি ঘটল। ঐ ঘটনা ছাড়াও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বচসার পর এক বেইজিংপন্থি সমর্থকের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মারাত্মকভাবে দগ্ধ এক ব্যক্তির হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা জানিয়েছে এবং বলেছে, তার অবস্থা গুরুতর। গত শুক্রবার ২২ বছরের এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর পর নতুন করে জ্বলে ওঠা বিক্ষোভের আগুনের ধারাবাহিকতায়ই গতকাল বিক্ষোভ-সহিংসতা হয়েছে। চীনের মূল ভূখণ্ডে বন্দি প্রত্যর্পণ নিয়ে একটি প্রস্তাবিত বিল বাতিলের দাবিতে গত জুন মাস থেকে হংকংয়ে এই আন্দোলন-বিক্ষোভ শুরু হয়।
টানা বিক্ষোভের মুখে ঐ বিল প্রথমে ‘মৃত’ এবং পরে বাতিল ঘোষণা করা হলেও আন্দোলন থামেনি। বরং গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীরা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের আরো অনেক দাবি নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে হংকংয়ের নেতা ক্যারি লাম সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ার করে বলেছেন, তারা দাবি আদায়ে সফল হবে না। তিনি বলেন, ‘হংকংয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সহিংসতার অবসান ঘটানোর পথ বের করতে আমরা সব রকম চেষ্টা করে যাব।’
