গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার অঙ্গীকারে শহিদ নূর হোসেন দিবস পালিত

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৪২

ইত্তেফাক রিপোর্ট

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহিদ নূর হোসেনের সংগ্রামী স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তার আদর্শ ধারণের মাধ্যমে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। রবিবার শহিদ নূর হোসেন দিবস নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়। ১৯৮৭ সালের এদিনে যুবলীগ নেতা নূর হোসেনের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। নূর হোসেনের এই আত্মত্যাগ তত্কালীন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনকে বেগবান করে। রবিবার সকালে রাজধানীর গুলিস্তানের নূর হোসেন স্কয়ারে (জিরো পয়েন্টে) সর্বস্তরের রাজনৈতিক নেতাকর্মী ফুল দিয়ে শহিদ নূর হোসেনকে স্মরণ করেন ও শ্রদ্ধা জানান। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এ শ্রদ্ধা নিবেদন চলে। সকাল সাড়ে ৯ টায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে নূর হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় নূর হোসেনের স্মৃতিচারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, যে গণতন্ত্রের জন্য নূর হোসেন রক্ত দিয়েছিলেন দেশে সেই গণতন্ত্র বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে। এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্য সংগঠনের মধ্যে সিপিবি, বাসদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্ট, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাম গণতান্ত্রিক জোট নূর হোসেন স্কয়ারে নূর হোসেনের স্মৃতির প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানায়। এছাড়া আওয়ামী যুব লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহিদ নূর হোসেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শহিদ নূর হোসেন সংসদ আয়োজিত বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘নূর হোসেন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহিদদের রক্ত বৃথা যায়নি। তাদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে সঙ্গে ভাত ও ভোটের অধিকার পেয়েছে। এর পেছনে সবচেয়ে বড়ো ভূমিকা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শহিদ নূর হোসেন দিবস উদ্যাপন কমিটির সভাপতি তছলিম আহম্মেদের সভাপতিত্বে সভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সহসভাপতি নূরুল আমিন রুহুল এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নান কচি, প্রচার সম্পাদক আকতার হোসেন, শহিদ নূর হোসেনের বড়ো ভাই মোহাম্মদ আলী হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে শহিদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষ্যে গুলশান কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, সহসভাপতি মনোরঞ্জন ঘোষাল, চিত্রনায়িকা রোজিনা, অরুনা বিশ্বাস, রোকেয়া প্রাচীসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।