প্রকৌশলীদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে দুদক

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৪৩

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে দুর্নীতি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় ও দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগে অনুসন্ধানে দুদক প্রকৌশলীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত। গতকাল সোমবার দুদকে সাত প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদকালে দুদক সচিব সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। এ সময় দিলোয়ার বখত বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দেখা হচ্ছে। দালিলিক প্রমাণ মিললেই এ ঘটনায় মামলা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতিবাজরা কোনোভাবেই পার পাবে না।

দুদক সূত্র জানায়, নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পের অনিয়ম অনুসন্ধানে গত ৩ নভেম্বর গণপূর্তের ৩৩ প্রকৌশলীকে তলব করে নোটিশ পাঠান দুদকের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত দুদকের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টিম সাত জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ নিয়ে মোট ২১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করল দুদক। এর আগে ৬ ও ৭ নভেম্বর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে ওএসডি) মাসুদুল আলমসহ ১৪ প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

গতকাল যে সাত জন প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তারা হলেন, পাবনা গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেবাশীষ চন্দ্র সাহা, রাজশাহী সার্কেলের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আহসানুল হক, রাজশাহী গণপূর্ত অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শফিকুর রহমান, রাজশাহী সার্কেলের উপসহকারী প্রকৌশলী খোরশেদা ইয়াছরিবা, পাবনা গণপূর্ত সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম ও মো. রওশন আলী।

দুদক সূত্র জানায়, গত ১৭ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে কমিশন তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করে। দুদক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনকে প্রধান করে গঠন করা অনুসন্ধান টিমের অপর দুই সদস্য হলেন, দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আতিকুর রহমান ও উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ। রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মাণাধীন গ্রিনসিটি আবাসন প্রকল্পের ২০ ও ১৬ তলা ভবনের আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালামাল কেনা ও ভবনে উত্তোলনের কাজে অস্বাভাবিক ব্যয়সহ নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানে দুদক টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।