এস আর শানু খান
উন্নয়নের জোয়ারে গা ভাসিয়ে বিশ্বের আর দশটা দেশের মতো আমাদের দেশও উন্নত থেকে উন্নতর হচ্ছে দিনের পর দিন। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে মানুষ। যোগাযোগ সহজ থেকে সহজতর হচ্ছে। মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ছে। একই সঙ্গে মানুষের মাঝে বাড়ছে নতুন থেকে নতুনতর জিনিসের নেশা। বাড়ছে দেশ তথা সমগ্র বিশ্ব সম্পর্কে জানার অধিক আগ্রহ। ইন্টারনেট ব্যবহারে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। সোশ্যাল মিডিয়াকে মানুষ সংবাদ মাধ্যম হিসেবে নিয়ে ফেলেছে অলরেডি। আজকের বাংলাদেশের মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুকটাকে নিয়েছে আপ-টু-ডেট সংবাদমাধ্যম হিসেবে। নানা কর্মব্যস্ততার ভেতরও একটু সময় পেলেই ঢুঁ মেরে আসে নিজের ফেসবুক ওয়ালে। চোখ বুলিয়ে নেন দেশের কোথায় কি হলো বা হচ্ছে।
জাগতিক এই মানুষগুলোর ভেতরকার সংবাদ জানার আগ্রহ যেমন বাড়ছে ঠিক অন্যদিকে ভয়ানক পরিস্থিতি ও ক্রাইমের ছড়াছড়ি দেখতে দেখতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফেসবুকে কোনো কোপাকুপি নয়তো ধর্ষণের ভিডিও সংবাদ দিয়ে দিনটা যেমন শুরু হয় ঠিক একইভাবে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কত যে এ রকম সংবাদের সাক্ষী হয়ে যেতে হয় মানুষের। কোথাও নবজাতকের মরা দেহ উদ্ধার, ময়লার ডাস্টবিন কিংবা ঝোপঝাড় নয়তো ড্রেন থেকে পরিচয়হীনা কোনো নবজাতকের কান্নার আওয়াজ, তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ করে হত্যা করার সংবাদ, কোথাও বা মেয়ের সামনে পিতাকে উলঙ্গ করে নির্যাতন করার ভিডিও, কোথাও আবার স্বামী-সন্তানের সামনে মাকে ধর্ষণ ও গলা টিপে হত্যার ঘটনা। এগুলো যেন আমাদের পরিবেশের অক্সিজেন হয়ে উঠেছে। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে এমন ঘটনা অহরহ না ঘটছে। দেখতে দেখতে সাধারণ মানুষের কাছে এই ঘটনাগুলোর গুরুত্ব হারানোর সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনাগুলো ঘটানোর কিঞ্চিত্ মানসিকতাও আমাদের ভেতর বাসা বাঁধতে সাহস পাচ্ছে অনায়াসেই।
মানুষের হিংস্রতার কাছে প্রতিনিয়ত মানুষের বিবেক হার মানছে। আর বিবেকের প্রশ্নের জবাবে প্রতি মানুষ নির্লজ্জ প্রমাণিত হচ্ছে দিনের পর দিন। প্রতিটি মানুষ তার বিবেকের কাছে কাপুরুষ সাজছে প্রতিটি মুহূর্তে। মানুষের এই নিষ্ঠুরতায় মানুষের বিবেক শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মরছে প্রতিনিয়ত। জনসম্মুখে, ক্যামেরার সামনে মানুষ মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করছে স্বাভাবিকভাবেই। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হচ্ছে কত না টালবাহানা। মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে মশার জীবনের থেকেও মূল্যহীন। প্রতিদিন কত যে মশা মেরে ফেলি তার হিসেব যেমন রাখা সম্ভবপর নয় ঠিক একইভাবে নিজের স্বার্থ কিংবা ক্ষমতাকে মানুষের সামনে জাহির করতে নয়তো নিজেকে সিংহপুরুষ প্রমাণ করতে মানুষ হত্যাটাকেই বেছে নিচ্ছে। অনেকে আবার আলোচনায় উঠতেও নাকি হরহামেশাই অস্ত্র হাতে নিয়ে গর্জন করে বেড়াচ্ছে মাঠে। পুরো দেশটাকেই কেমন যেন অস্ত্রের খেলাঘর বানিয়ে তুলছে কিছু দুষ্টু মানুষ। যার ফলশ্রুতিতে বিশ্বদরবারে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে তো হচ্ছেই। এটা নিয়ে কারো যেন তেমন মাথাব্যথা নেই।
মানুষ হয়ে মানুষের প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণ সত্যিই কতখানি হিংস্রতার পরিচায়ক সেটার হিসেব কে রাখে? আজকের সমাজের প্রতিটি মানুষ তার নিজের বিবেকের কাছেই এ রকম নানা প্রশ্নের সম্মুখীন। বিবেকের এমন প্রশ্নের উত্তর আসলে কি হতে পারে সেটাই এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
n লেখক :শিক্ষার্থী, সরকারি এম এম কলেজ, যশোর
