নূর হোসেনকে নিয়ে কটূক্তি

ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে রাঙ্গার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, শাস্তি দাবি

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৩৩

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহিদ নূর হোসেনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গার বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার ঢাকা ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। সংসদ সদস্য পদ থেকে রাঙ্গার পদত্যাগ ও শাস্তির দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিন্দার ঝড় বইছে। শহিদ নূর হোসেনের মা মরিয়ম বিবি কটূক্তির জন্য রাঙ্গাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে তিনি রাঙ্গার বিরুদ্ধে মামলা করবেন।

প্রতিবছর ১০ নভেম্বর ‘শহিদ নূর হোসেন দিবস’ হিসেবে পালন করা হলেও জাপা দিনটিকে পালন করে ‘গণতন্ত্র দিবস’ হিসেবে। প্রতিবছরের মতো এবারও দিনটি উপলক্ষ্যে রবিবার রাজধানীর বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাঙ্গা বলেন, ‘এরশাদ কাকে হত্যা করলেন। নূর হোসেনকে? নূর হোসেন কে? একটা অ্যাডিকটেড ছেলে। একটা ইয়াবাখোর, ফেনসিডিলখোর।’ নূর হোসেনকে নিয়ে রাঙ্গার এই ধরনের বক্তব্যের প্রতিবাদে গতকাল বিকাল ৪টা থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন নূর হোসেনের মা মরিয়ম বিবি, তিন ভাই—আলী হোসেন, দেলোয়ার হোসেন ও আনোয়ার হোসেন এবং বোন শাহনাজ বেগমসহ পরিবারের প্রায় ১২ সদস্য।

বিচারের দাবিতে যুবলীগ গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে রাঙ্গার কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে। অন্যদিকে, গতকাল রংপুরে নগরীর প্রেসক্লাব চত্বরে প্রতিবাদ সভা করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ। সেখানে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করতে রাঙ্গাকে আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, অন্যথায় রংপুরে রাঙ্গাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করাসহ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

জাপার ঐ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় যেতে পারলে নূর হোসেন ও ডা. মিলন হত্যায় জড়িতদের বিচার করা হবে। নূর হোসেন ও ডা. মিলনকে কারা হত্যা করেছে, কেন হত্যা করেছে এবং কীভাবে হত্যা করেছে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।