একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের গণগ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা দায়ের, নির্বাচনী গণসংযোগকালে প্রার্থীদের ওপর হামলা, গাড়ি, মাইক ভাঙচুর ও ভোটাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এবং প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক ভূমিকার প্রতিবাদে জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেন।
শনিবার সকালে জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এটি আয়োজন করে নোয়াখালী জেলা বিএনপি। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি।
এ সময় বক্তব্য রাখেন- নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী দলের যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, নোয়াখালী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যা বুলু, নোয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও নোয়াখালী-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ফজলুল আজিম।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘এ প্রহসনের নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীরা মাঠে থাকবে।’ এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নোয়াখালী-৫ আসনটি আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি দলের সাধারণ সম্পাদকের নির্বাচনী এলাকা, এটি আমারও নির্বাচনী এলাকা। এ এলাকায় সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করার কথা থাকলেও তা নেই। আমাকে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে ও আমার দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে সরকারি দল।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, ‘তার নির্বাচনী এলাকায় যুবলীগের এক নেতার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে দলের কয়েকশ’ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারকালে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, প্রচারে বাধা, মাইক ভাঙচুর ও বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোটারদেরকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এতে করে আমার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বাধার সৃষ্টি হচ্ছে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।’
আরো পড়ুনঃ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে আওয়ামী লীগ
বিএনপির দলীয় প্রার্থী বরকত উল্যা বুলু, জয়নাল আবদীন ফারুক, ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও প্রকৌশলী ফজলুল আজিম একই অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা কেউ নিরাপদে নির্বাচনী প্রচারাভিযান পরিচালনা করতে পারছেন না।’ এ সময় তারা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতি জোর দাবি জানান।
ইত্তেফাক/কেকে
