আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে কয়েক লাখ মানুষকে
বিবিসি ও রয়টার্স
অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানল থেকে বাঁচতে কয়েক লাখ বাসিন্দা বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার নিউ সাউথ ওয়েলসের কর্মকর্তারা দাবানল নিয়ে ১১টি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে।
অস্ট্রেলিয়ায় গ্রীষ্মের শুষ্ক মৌসুমে প্রায়ই প্রাণঘাতী দাবানল দেখা যায়। তবে এ বছর এর মাত্রা ও তুলনামূলক আগেভাগেই শুরু হওয়া অনেককেই বিস্মিত করেছে। অস্ট্রেলিয়ার এবারের দাবানলের ভয়াবহতার পেছনে বিশ্লেষকরা জলবায়ু পরিবর্তনকেই কারণ হিসেবে দেখছেন। কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসের একাংশে টানা তিন বছরের খরায় যে ভয়াবহ শুষ্ক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, এবারের দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় তাও ভূমিকা রেখেছে। প্রবল বাতাস ও উচ্চ তাপমাত্রার ‘অভূতপূর্ব’ সংমিশ্রণে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া দাবানল এরই মধ্যে তিন জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, ধ্বংস করেছে দেড় শতাধিক বাড়িঘর।
জনসাধারণের মৃত্যু ঠেকাতে নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ড কর্তৃপক্ষ সাত দিনের জরুরি অবস্থা জারি করে অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের হাতে সরকারি সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, বাসিন্দাদের সরে যেতে বাধ্য করা, রাস্তাঘাট ও সরকারি সেবা বন্ধ করে দেওয়াসহ বিপুল পরিমাণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় দাবানলের কারণে প্রায় ৫০ লাখ বাসিন্দার সিডনি ‘বিপজ্জনক ধোঁয়াশায়’ আচ্ছাদিত হওয়ার পর শহরটির কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জনসাধারণকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরই মধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের প্রায় ৬০০টি স্কুল ও কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কুইন্সল্যান্ডের পরিস্থিতি এতটা খারাপ না হলেও সেখানে দাবানলের কারণে সৃষ্ট হুমকির মাত্রা ‘মারাত্মক’ বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উত্তরের এ রাজ্যেও প্রায় ২২টি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার নিউ সাউথ ওয়েলসের কর্মকর্তারা দাবানল নিয়ে ১১টি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। সতর্কতাগুলোর প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা এলাকার জন্য দেওয়া হয়। ‘বিপর্যয়কর পরিস্থিতির’ মধ্যেই রাজ্য জুড়ে ৭১টি দাবানলের অর্ধেকেরও বেশি অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বলেও কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
